বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৪ ১৪:৪৯ পিএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৪ ১৫:২০ পিএম
মঙ্গলবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার ও পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেন শিক্ষক সমিতির সব নেতাকর্মী ও অন্য শিক্ষকরা। এ ছাড়া অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. মো. শামীমুল ইসলামের ওপর সন্ত্রাসী ও বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধনে অংশ নেন অর্থনীতি বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘এই উপাচার্য প্রথম দিন থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুক্ত এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ ছাত্রলীগের কমিটির বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টা করছেন। শিক্ষক সমিতি যখন থেকে শিক্ষকদের দাবি নিয়ে কথা বলা শুরু করেছে তখন থেকেই উপাচার্য ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন। আমাদের দাবিগুলো নিয়ে মৌখিক ও লিখিত জানিয়েছি কিন্তু তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একজন শিক্ষককে উপাচার্য নিজে কনুই দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছেন। এই সন্ত্রাসী হামলা উনি নিজেই পরিচালিত করছেন এবং ট্রেজারার, প্রক্টরও বহিরাগতদের ইশারা দিয়েছেন শিক্ষকদের ওপর হামলা করার জন্য। শিক্ষার্থীদের যতটুকু ক্ষতি হয়েছে আমরা এই ক্ষতি দিনরাত কাজ করে প্রয়োজনে অনলাইন ক্লাস করে নেব। উপাচার্য ও ট্রেজারারের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম বন্ধ রাখব।’
এর আগে শিক্ষকদের সাত দফা দাবি না মানায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ এবং প্রক্টরের দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামানের পথ অবরুদ্ধ করেন।
সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল উপাচার্য, শিক্ষক এবং ছাত্রলীগের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে শিক্ষক সমিতি, কুবি উপাচার্য-কোষাধ্যক্ষ-প্রক্টরসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন এবং তাদের পদত্যাগ দাবি করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বর্জন করার ঘোষণা দেন। হাতাহাতির ঘটনায় উপাচার্যপন্থি ও শিক্ষক সমিতি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ করেছেন।