× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মধ্যরাতে বুয়েটে ছাত্রলীগের ‘কার্যক্রম’, ফের উত্তাল বুয়েট

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৪ ২০:৪০ পিএম

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৪ ০০:৫৮ এএম

শুক্রবার বুয়েটের শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলনে নানা স্লোগানের ব্যানার হাতে শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো

শুক্রবার বুয়েটের শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলনে নানা স্লোগানের ব্যানার হাতে শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে দাবি করে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, আবরার ফাহাদ হত্যার পর বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও গতকাল গভীর রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে রাজনৈতিক প্রোগ্রাম চালায়।

মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৯ মার্চ) বিকালে বুয়েটের শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলন করে ৩০ ও ৩১ মার্চের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষাসহ সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তারা পাঁচটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনের পর মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা এই বুয়েটে হবে না’, ‘বুয়েট থেকে করব ছাড়া, পলিটিকসে যুক্ত যারা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীরা লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে সমাদৃত ও শীর্ষস্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবরে আবরার ফাহাদ ভাইয়ের নৃশংস মৃত্যুর মাধ্যমে বুয়েট বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরাপদ ক্যাম্পাসে রূপ নেয়। বুয়েটে সর্বশেষ ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে যে নিরাপদ ও সুন্দর একটি ক্যাম্পাস আমরা উপহার হিসেবে পেয়েছি, তা দেশব্যাপী সকলের কাছে প্রশংসিত ও অনুকরণীয়। দেশের সকল মানুষ, নানা প্রান্তের নানা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী দেখেছে একটি রাজনীতিবিহীন ক্যাম্পাসের রোল মডেল, তার সুফল, তার সৌন্দর্য, তার উৎকর্ষের যত সমূহ সম্ভাবনা।

তারা আরও বলেন, যে কলুষিত হাতগুলোর কারণেই ঝরে গিয়েছিল আমাদেরই নিষ্পাপ মেধাবী প্রাণ, সেই কলুষিত হাতগুলো পরে বারবার ভিন্ন ভিন্নভাবে পুনরায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে ক্যাম্পাসে। সেই অপশক্তি পুনরায় ক্যাম্পাসকে ধ্বংস করে দিতে চায়।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুয়েটে ছাত্রলীগের নেতাদের প্রোগ্রামের ঘটনাটিকে ‘ন্যক্কারজনক’ উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ২৮ মার্চ রাত ১টার দিকে আমরা জানতে পারি, বুয়েটে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা এসেছেন এবং তারা ক্যাম্পাসের মূল গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকেন। রাত সাড়ে ১০টার পর যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারে না, সেখানে রাজনৈতিক বহিরাগতরা কীভাবে ঢুকল?

তাদের দাবি, বিপুলসংখ্যক বহিরাগত লোক মিছিলের মতো করে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের চিনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ক্যাম্পাসে রাতের আঁধারে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা ক্যাম্পাসের মর্যাদার প্রতি তীব্র অপমানজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তর কোনোভাবেই কি ন্যক্কারজনক এ ঘটনার দায় এড়াতে পারে?

বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ, এমন একটি ক্যাম্পাসে রাতের আঁধারে এত বড় একটি রাজনৈতিক সমাগম এবং বহিরাগতদের আগমন ক্যাম্পাসের মর্যাদার প্রতি তীব্র অপমানজনক। একই সঙ্গে এটি একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু স্বাভাবিক শিক্ষাপরিবেশের নিরাপত্তার ব্যাপারকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তর কোনোভাবেই এই দায় এড়িয়ে যেতে পারে না।


মধ্যরাতে বুয়েটে বহিরাগত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের এমন দাপুটে প্রবেশ কর্তৃপক্ষ ও ডিএসডব্লিউর দৃষ্টির অগোচরে হওয়া অসম্ভব বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, ঘটনা ঘটে যাওয়ার দেড় দিন পার হয়ে গেলেও ডিএসডব্লিউর কাছ থেকে ওই ঘটনা সম্পর্কে কোনো ধরনের সদুত্তর পাওয়া যায়নি। ক্যাম্পাসে মধ্যরাতে তারা প্রবেশের এই অনুমতি কীভাবে কর্তৃপক্ষের থেকে পেয়েছিল, তা এখনও ধোঁয়াশাপূর্ণ ও সন্দেহজনক। এসব ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েটে বর্তমানে চলমান পাঁচটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিপুল সমালোচনার ঝড় ওঠে। তারা তাদের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও ডিএসডব্লিউ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। এর আগে শুক্রবার বেলা আড়াইটায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বুয়েটের শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হন।

শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি

১. বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্পষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে বুয়েটের সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২৮ মার্চের মধ্যরাতে রাজনৈতিক সমাগমের মূল সংগঠক ২১তম ব্যাচের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ রাব্বির বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও হলের আসন বাতিল করা।

২. ইমতিয়াজের সঙ্গে বুয়েটের বাকি যেসব শিক্ষার্থী জড়িত ছিল, তাদের বিভিন্ন মেয়াদে হল ও টার্ম বহিষ্কার করা।

৩. বহিরাগত রাজনৈতিক যারা ক্যাম্পাসে ঢুকেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তারা কেন, কীভাবে প্রবেশের অনুমতি পেল, এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট জবাবদিহি বুয়েট প্রশাসনকে দিতে হবে।

৪. উপরোক্ত ১ ও ২ নম্বর দাবি আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে বাস্তবায়ন করা না হলে সব ব্যাচের শিক্ষার্থী ডিএসডাবলুর (ছাত্রকল্যাণ পরিচালক) পদত্যাগ করতে হবে।

৫. ক্যাম্পাসে মধ্যরাতে বহিরাগতদের প্রবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এর প্রতিবাদ হিসেবে ৩০ ও ৩১ মার্চের টার্ম ফাইনালসহ সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জন।

৬. আন্দোলনরত বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না, এই মর্মে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা