অবন্তিকার আত্মহনন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৪ ২১:৫৫ পিএম
ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা।
‘অবন্তিকা বিমান বাহিনীর চাকরি পেয়ে চলে গিয়েছিল। জিডিপি (জেনারেল ডিউটি পাইলট) হিসেবে প্রশিক্ষণ চলাকালে ফেরত আসে। কারণ তার ইচ্ছা ছিল বিচারক হওয়ার। আর কিছুদিন পরে তার স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষার ফল বের হতো।’ দুঃখের সঙ্গে বলছিলেন অবন্তিকার শিক্ষক আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সরকার আলী আক্কাস।
গত শুক্রবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা তার সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান ও শিক্ষক দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অসম্মান-হয়রানির অভিযোগ পোস্ট করে গলায় ফাঁস দেন। এর প্রতিবাদে ও বিচার দাবিতে আন্দোলন চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে (১৮ মার্চ) সোমবার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন হয়। সেখানে অংশ নেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সরকার আলী আক্কাস।
অধ্যাপক সরকার বলেন, ‘অবন্তিকার মৃত্যুতে আইন বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমাদের বিভাগের মেধাবী ছাত্রী অবন্তিকার মৃত্যুর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচারের দাবি জানাই। তার মনের অবস্থাটা সে যে ফেসবুকে পোস্ট করল, সেগুলো যদি সে আমাদের আগেই বলত, তাহলে আমরা তাকে সহযোগিতা করতে পারতাম। যেদিন সে আত্মহত্যা করল তার আগের দিন ডিপার্টমেন্টে তার সঙ্গে দেখা হয়। তখনও আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, কেমন আছো, কী অবস্থা? সে তখনও স্বাভাবিকভাবেই কথা বলে। সে তখনও কিছু বলল না। এটা আমার কাছে অনেক কষ্টের।’
অবন্তিকাকে আত্মহত্যায় প্ররোচণা দেওয়ার অভিযোগে মামলায় গ্রেপ্তার সহপাঠী আম্মান ও শিক্ষক দ্বীন ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার ওসি মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, রবিবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল গ্রেপ্তারের পর ওই আসামিকে কুমিল্লায় নিয়ে আসে। সোমবার দুপুরে তাদের কুমিল্লার একটি আদালতে তোলা হয়। আদালত সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকীর দুই দিন এবং সদ্যসাবেক সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে শনিবার রাতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দ্বীন ইসলাম ও আম্মান সিদ্দিকীকে আসামি করে কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম।
অবন্তিকার অভিযোগ, প্রথম বর্ষে পড়াকার সময় তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন সহপাঠী আম্মান। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকে আম্মান তাকে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করতেন। ক্যাম্পাস চত্বরে, ক্লাসে, করিডোরে এবং বিভিন্ন স্থানে তিনি প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। গত ১৪ নভেম্বর আইন বিভাগের চেয়ারম্যান আলী আক্কাসের মাধ্যমে তৎকালীন প্রক্টর মোস্তফা কামাল বরাবর অবন্তিকা এই অভিযোগপত্র দেন। এর সুরাহা না হওয়ায় এবং উত্ত্যক্ত অব্যাহত থাকায় গত শুক্রবার ফেসবুক আম্মান ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অভিযোগ পোস্ট করে গলায় ফাঁস দেন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী অবন্তিকা। এ ঘটনার সঙ্গে শিক্ষক দ্বীন ইসলামের সংশ্লিষ্টতার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্য চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার অবন্তিকার আত্মহত্যা-ঘটনা তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব রঞ্জন কুমার দাস।