প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৬:২৭ পিএম
আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৭:০৯ পিএম
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। প্রবা ফটো
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখার শিক্ষক মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রী নিপীড়নের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কেউ আশা করে না। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একজন বাদী লালবাগ থানায় আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত বছর তার মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় গণিতের শিক্ষক মুরাদ হোসেনের ব্যক্তিগত কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়ত। তখন মুরাদ ওই ছাত্রী ও তার সহপাঠীদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন। গত বছরের ১০ মার্চ কোচিং শেষে অন্য সহপাঠীদের ছুটি দিয়ে কৌশলে বাদীর মেয়েকে আটকে রাখা হয়। পরে তার সঙ্গে ‘খারাপ’ আচরণ করেন মুরাদ। এ ছাড়া প্রায়ই তার শরীরে তিনি হাত দিতেন। পরে বাদী জানতে পারেন, শিক্ষক মুরাদ আরও অন্তত দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই আচরণ করেছেন। অনেক ছাত্রী এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।’
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি তাকে বরখাস্তের সুপারিশ না করে বদলির সুপারিশ করে। পরে শনিবার মুরাদকে প্রত্যাহার করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এতে সন্তুষ্ট না হয়ে রবিবার মুরাদের শাস্তির দাবিতে ছাত্রীরা আজিমপুর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। মামলার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করি।
খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, আসামি মুরাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও ল্যাপটপ জব্দ করে কিছু অডিও ভিডিও ক্লিপ পাওয়া গেছে। ভিকটিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। তদন্ত শেষ করে আসামিকে বিচারের আওতায় আনা হবে। যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অনেক তথ্য পাচ্ছি। আসামি এসব অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
এক বছর আগের অভিযোগ এখন কীভাবে প্রমাণ করা সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে মহিদ বলেন, ফৌজদারি অপরাধ কখনও তামাদি হয় না, ৫০ বছরর হলেও এর সঠিক তদন্ত করে বিচার করা সম্ভব। তদন্তে যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত অপরাধ কত দিন, কত জায়গায়, কতবার হয়েছে। সবই তদন্তের আওতায় আনা হবে। শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রমাণের জন্য মেডিকেল প্রতিবেদন জরুরি নয়। অভিযোগ কমানোর জন্য আরও অনেক প্রক্রিয়া রয়েছে।
কোচিং সংক্রান্ত বিরোধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোচিং সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হলে সেটাও আওতায় আনা হয়েছে। আমরা প্রতিটি নাগরিকের অধিকারের বিষয়ে সংবেদনশীল। সব কার্যক্রম যথাযত আওতায় আনা হবে।