টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২২ ২১:০১ পিএম
আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২২ ২১:২০ পিএম
মুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করতে যান মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। ছবি: সংগৃহীত
তিন দিন ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) মো. ফরহাদ হোসেন অবশেষে তার কার্যালয় থেকে বেড় হয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যালয় থেকে বেড় হয়ে শুক্রবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজ আদায় করেছেন তিনি।
তৃতীয় শ্রেণির ২২ জনের চাকরি স্থায়ীকরণসহ ১৪ দফা দাবিতে ভিসিকে নিজ কার্যালয়ে বুধবার সকাল সোয়া ৯টা থেকে অবরুদ্ধ করেন কর্মচারীরা। এ সময় থেকেই ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন তারা।
এ বিষয়ে উপচার্য মো. ফরহাদ হোসেন জানান, ২০১৯ সালে তৎকালীন উপাচার্য ২২ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে গেছেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে দুই দফায় ১৫টি পদের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ওই ১৫ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এ সময় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। তারা ১৫ পদের বিপরীতে ২২ জনকে নিয়োগ দিতে দাবি তোলেন। পাশাপাশি কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়া শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিও করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির নেতারা তাদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেছেন। কিন্তু তারা তাদের দাবিতে অনড়।
শুক্রবার সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভিসিকে মুক্ত করতে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে আসেন। মিছিলটি উপাচার্যের কার্যালয়ে আসার পর সেখানে অবস্থান ধর্মঘটে থাকা কর্মচারীরা চলে যান। তখন শিক্ষার্থীরা তালা খুলে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা উপাচার্যকে বাইরে আসার অনুরোধ জানান। ওই সময় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাইরে না এলেও পরে দুপুরে ছাত্রদের সঙ্গে গিয়ে মসজিদে নামাজ আদায় করেন।
মিছিল নিয়ে ভিসির কার্যালয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান দুলাল বলেন, ‘অযৌক্তিক কিছু দাবি আদায়ের জন্য তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা ভিসি স্যারকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এটা খুবই দুঃখজনক। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে আমরা তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।’
নামাজ শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমি গর্বিত। এমন কিছু সন্তান পেয়েছি- যারা সত্য, ন্যায় এবং বাস্তবতা বুঝতে পেরেছে। তোমাদের মতো সন্তানরা থাকলে এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূর এগিয়ে যাবে, এ দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
এদিকে আন্দোলনকারীরা জানান, বারবার তাদের দাবির কথা জানিয়েও দাবি আদায় না হওয়ায় ভাইস চেন্সেলরের কার্যালয় তালাবদ্ধ করা হয়।
আন্দোলনকারী ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি এসএম মাহফুজুর রহমান বলেন, 'আমরা বৃহস্পতিবার রাতে তালা খুলে দিয়েছিলাম। তারপরও তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন। পরে তিনি আজ (শুক্রবার) দুপুরে কার্যালয় থেকে বের হন। আমাদের ১৪ টি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।'