বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:৪১ পিএম
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৭:২৭ পিএম
প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ওই বিভাগের এক শিক্ষককে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে একই বিভাগের আরও দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রসায়ন বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রসায়ন বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির ৩৯০তম সভায় এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. দেবাশিস পালিত।
তিনি জানান, বিভাগের এক ছাত্রী এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী। মাস্টার্সের লিখিত পরীক্ষার সময় অসদুপায়
অবলম্বন করার কারণে আমাকে বরখাস্ত করা হয়। পরে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি আমাকে তার রুমে একা
ডেকে পাঠান। রুমে প্রবেশের পর স্যার আমার কাছে চলে আসেন। এ সময় আমি ভয়ে চিৎকার করে কান্নাকাটি করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি রুমের
দরজা লক করা। তারপর তিনি আমাকে অনুরোধ করেন এভাবে কান্নাকাটিরত অবস্থায় বাইরে না
যেতে। তিনি কিছুক্ষণ আমাকে বসিয়ে রাখেন কান্না থামানোর জন্য। পরে আমি কোনোভাবে
স্বাভাবিক হয়ে রুম থেকে বের হই।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষককে বারবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ ছাড়া রসায়ন বিভাগের অন্য এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—রাতে মোবাইলে কল করে ডিস্টার্ব করা, ফেসবুকের পোস্টে বাজে কমেন্ট করা এবং বিভাগে কাউকে একা পেলে অশালীন কথাবার্তা বলা।
বিষয়টি
নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক বলেন, ‘ফেসবুকে
ফান করে কমেন্ট করেছি, এ ছাড়া অন্য কিছু নয়। হয়তো কোনো বিষয়ে জানার জন্য কাউকে কল দিয়েছিলাম। তবে সেটা আমার মনেও নেই। আমার
অন্য কোনো ইনটেনশন ছিল না।’
অধ্যাপক ড. দেবাশিস পালিত বলেন, ‘তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আমাদের অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়গুলোর সত্যতা যাচাইয়ে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমরা শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ বিষয়ের যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য আমরা কাজ করছি।’
এর আগে একই বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন মাস্টার্সের এক ছাত্রী। যদিও তা অস্বীকার করেছেন ওই শিক্ষক। তবে এরই মধ্যে তাকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।