× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিতর্ক খতিয়ে দেখতে কমিটি

‘শরীফার গল্প’ এই সমাজেরই গল্প

সেলিম আহমেদ

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ১৩:২৮ পিএম

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১৮:৪৩ পিএম

‘শরীফার গল্প’ এই সমাজেরই গল্প

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী সপ্তম শ্রেণির ‘ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান’ বইয়ের একটি অধ্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে হিজড়া জনগোষ্ঠী সম্পর্কে একটি জনসচেতনতামূলক পাঠ। ‘মানুষে মানুষে সাদৃশ্য ও ভিন্নতা’ বিষয়ক অধ্যায়ের ‘শরীফার গল্প’ শিরোনামের এই পাঠের পক্ষে-বিপক্ষে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ সর্বত্র চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আসিফ মাহতাব একটি অনুষ্ঠানে গল্পটির সমালোচনা করে বইটির দুটি পাতা ছিঁড়ে ফেলার পর বিষয়টি নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়।

সমালোচকরা দাবি করেছেন, পাঠ্যবইয়ের ওই অংশ ‘রূপান্তরকামী’ এবং ‘সমকামিতাকে’ উসকে দিচ্ছে। তবে এনসিটিবিসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘শরীফার গল্প’ একটি জনসচেতনতামূলক গল্প। এ কাহিনীতে দেশের সংবিধানস্বীকৃত ‘তৃতীয় লিঙ্গের’ মানুষ বা ‘হিজড়াদের’ জীবনের গল্প সুনিপুণভাবে তুলে আনা হয়েছে। অথচ একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ নিয়ে বিতর্ক ছড়াচ্ছেন।

পাঠ্যবইয়ের ওই পাঠে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ নয়, ‘থার্ড জেন্ডার’ প্রসঙ্গ আছে জানিয়ে এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, পাঠের উপস্থাপনায় কোনো বিতর্ক বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়ে থাকলে এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করলে তা সংশোধন করা যাবে। তিনি এও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ‘দেশে একটি গোষ্ঠী নানা বিষয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে। এখানে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় অরাজকতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রবণতাও রয়েছে।’

ইতোমধ্যেই ‘শরীফার গল্প‘ নিয়ে বিতর্ক খতিয়ে দেখতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রশীদকে আহ্বায়ক করে গতকাল বুধবার পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর মুফতি মাওলানা কফিল উদ্দিন সরকার, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) পরিচালক অধ্যাপক আবদুল হালিম এবং ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ। 

বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে

গত শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বর্তমান কারিকুলামে নতুন পাঠ্যপুস্তক : বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনার হয়। যেটির আয়োজক ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় শিক্ষক ফোরাম’। এই অনুষ্ঠানে আলোচক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আসিফ মাহতাব উৎস সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ‘শরীফার গল্প’ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দাবি করেন, পাঠ্যবইয়ের ওই অংশ ‘রূপান্তরকামী’ এবং ‘সমকামিতাকে’ উসকে দিচ্ছে। বইটির দুটি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলে তিনি বলেন, ‘বইয়ের দোকানে যাবেন। ৮০ টাকা দিয়ে বইটি কিনে এই যে দুইটা পাতা আছে, শরীফ-শরীফার পাতা দুটি ছিঁড়বেন। ছেঁড়ার পরে আপনারা বইটা দিয়ে বলবেন, বইটা অর্ধেক দামে বেচো। যাতে মানুষের অ্যাওয়ার হয়। এটাই হবে আমাদের প্রতিবাদ। আমার টাকা দিয়ে আমি শরীফ-শরীফার পাতা দুইটা ছিঁড়ব।’

এ-সংক্রান্ত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গত সোমবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আসিফ মাহতাব ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তার সঙ্গে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো চুক্তি নেই। এতে আরও বলা হয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তি এবং সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে আসিফ মাহতাবসহ সমালোচকরা দাবি করছেন, এই ঘটনায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার একদল শিক্ষার্থী আসিফ মাহতাবকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামে এবং ক্লাস বর্জনের ডাক দেয়। কিন্তু গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্বাভাবিক ক্লাস-পরীক্ষা চলেছে। ওরিয়েন্টেশনও হয়েছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা ক্লাস বর্জন করেননি।

কী আছে গল্পটিতে

সপ্তম শ্রেণির ‘ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান’ বইটি নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, এটির ‘মানুষে মানুষে সাদৃশ্য ও ভিন্নতা’বিষয়ক অধ্যায়ের একটি অংশে হিজড়া জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়েছে। সেই অংশে আছে, খুশি আপা (শিক্ষক) ক্লাসে একজন অতিথিকে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ইনি ছোটবেলায় তোমাদের স্কুলে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। আজ এসেছেন নিজের স্কুল দেখতে। এ সময় সুমন (শিক্ষার্থী) জানতে চায়, ‘আপনার নাম কী?’ তিনি জানান, তার নাম শরীফা আকতার। এরপর তিনি তার জীবনকাহিনী বলেন।

শরীফা বলেন, যখন আমি তোমাদের স্কুলে পড়তাম, তখন আমার নাম ছিল শরীফ আহমেদ। এক শিক্ষার্থী আনুচিং অবাক হয়ে জানতে চায়, আপনি ছেলে থেকে মেয়ে হলেন কী করে? শরীফা তাকে জানান, আমি তখনও যা ছিলাম, এখনও তা-ই আছি। নামটা কেবল বদলেছি।

শিক্ষার্থীদের অবাক হতে দেখে শরীফা তার জীবনের কথা বলতে থাকেন। তিনি বলেন, ছোটবেলায় সবাই আমাকে ছেলে বলত। কিন্তু আমি নিজে একসময় বুঝলাম, আমার শরীরটা ছেলেদের মতো হলেও আমি মনে মনে একজন মেয়ে। আমি মেয়েদের মতো পোশাক পরতে ভালোবাসতাম। কিন্তু বাড়ির কেউ আমাকে পছন্দের পোশাক কিনে দিতে রাজি হতো না। বোনদের সাজবার জিনিস দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে সাজতাম। ধরা পড়লে বকাঝকা, এমনকি মারও জুটত কপালে। মেয়েদের সঙ্গে খেলতেই আমার বেশি ইচ্ছে করত। কিন্তু মেয়েরা আমাকে খেলায় নিতে চাইত না। ছেলেদের সঙ্গে খেলতে গেলেও তারা আমার কথাবার্তা, চালচলন নিয়ে হাসাহাসি করত। স্কুলের সবাই, পাড়াপড়শিÑ এমনকি বাড়ির লোকজনও আমাকে ভীষণ অবহেলা করত। আমি কেন এ রকম, এ-কথা ভেবে আমার নিজেরও খুব কষ্ট হতো, নিজেকে ভীষণ একা লাগত।

শরীফা আকতার জানান, একদিন এমন একজনের সঙ্গে পরিচয় হলো, যাকে সমাজের সবাই মেয়ে বলে; কিন্তু সে নিজেকে ছেলে বলেই মনে করে। আমার মনে হলো, এই মানুষটাও আমার মতন। সে আমাকে বলল, আমরা নারী বা পুরুষ নই, আমরা হলাম তৃতীয় লিঙ্গ (থার্ড জেন্ডার)। সেই মানুষটা আমাকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেল, যেখানে নারী-পুরুষের বাইরে আরও নানা রকমের মানুষ আছেন। তাঁদের বলা হয় ‘হিজড়া’ জনগোষ্ঠী। তাঁদের সবাইকে দেখেশুনে রাখেন তাঁদের ‘গুরু মা’। আমার সেখানে গিয়ে নিজেকে আর একলা লাগল না, মনে হলো না যে আমি সবার চেয়ে আলাদা। সেই মানুষগুলোর কাছেই থেকে গেলাম। এখানকার নিয়মকানুন, ভাষা, রীতিনীতি আমাদের বাড়ির চেয়ে অনেক আলাদা। আমরা সবার সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়ে একটা পরিবারের মতনই থাকি। বাড়ির লোকজনের জন্যও খুব মন খারাপ হয়। তাই মাঝে মাঝে বাড়িতেও যাই।

তিনি জানান, আমাদেরও ইচ্ছে করে সমাজের আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবন কাটাতে, পড়াশোনা, চাকরি-ব্যবসা করতে। কিন্তু এখনও বেশিরভাগ মানুষ আমাদের সঙ্গে মিশতে চায় না, যোগ্যতা থাকলেও কাজ দিতে চায় না। তবে আজকাল অনেক মানুষ আমাদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। ইদানীং আমাদের মতো অনেক মানুষ নিজ বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে। আমাদের মতো মানুষ পৃথিবীর সব দেশেই আছে। অনেক দেশেই তারা সমাজের বাকি মানুষের মতনই জীবন কাটায়। তবে আমাদের দেশের অবস্থারও বদল হচ্ছে। ২০১৩ সালে সরকার আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমাদের জন্য কাজ করছে। শিক্ষার ব্যবস্থা করছে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর প্রচেষ্টা নিচ্ছে। হিজড়া জনগোষ্ঠীর নজরুল ইসলাম ঋতু, শাম্মী রানী চৌধুরী, বিপুল বর্মণের মতো অনেক মানুষ সমাজজীবনে এবং পেশাগত জীবনে সাফল্য পেয়েছেন।

এরপর নজরুল ইসলাম ঋতু, শাম্মী রানী চৌধুরীসহ কর্মক্ষেত্রে সফল কয়েকজন হিজড়ার ছবি দেওয়া হয়েছে।

এরপর বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা এতদিন জানত, মানুষ ছেলে হয় অথবা মেয়ে হয়। কিন্তু শরীফার জীবনকাহিনী থেকে তারা বুঝতে পারল, এখানেও বৈচিত্র্য রয়েছে। এরপর শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা ও নানা প্রশ্নের মাধ্যমে শেখার অংশ রয়েছে।

কেন পাঠ্যবইয়ে ‘শরীফার গল্প’

সপ্তম শ্রেণির এ বইটির রচনা ও সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা বিশিষ্ট লেখক আবুল মোমেন বলছেন, ‘ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের এই বইটি লেখা হয়েছে এমনভাবে, যেন এতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের কথা থাকে। এমনভাবে লেখা হয়েছে, যাতে কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শিশুদের মনে কোনো ধরনের হেয়বোধ বা তুচ্ছ ধারণা গড়ে না ওঠে।’ তিনি বলেন, ‘সমাজস্বীকৃত লিঙ্গের বর্গবহির্ভূতদের আমরা তৃতীয় লিঙ্গ বলে থাকি। ব্যাপক অর্থে তারা হিজড়া হিসেবে পরিচিত। এসব নিয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক রয়েছে। তবে সেটা স্কুল পর্যায়ের ব্যাপার নয়। তারা যতটুকু বুঝতে পারবে, ততটুকু জানানোর কাজটাই আমরা করেছি। এখানে বিতর্ক করার মতো কোনো বিষয় আছে বলে আমার মনে হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অন্তর্ভুক্তি। সমাজে সংখ্যালঘু বা প্রান্তিক পর্যায়ের যারা আছেন, বিভিন্ন পেশার মানুষ, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা।’ 

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

এ প্রসঙ্গে আসিফ মাহতাবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফেসবুকে তিনি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন, ‘ইসলামিক পলিটিক্যাল ফিলোসফার’। ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোতে ‘অ্যানালাইটিক্যাল ফিলোসফি’তে মাস্টার্স করার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। 

এ প্রসঙ্গে এনসিটিবির জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন কোর কমিটি সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম তারিক আহসান বলেন, ইতিবাচক মনোভাব তৈরির লক্ষ্যে গল্পটি পাঠ্যবইয়ে রাখা হলেও সমাজের একটি অংশ ‘বৃত্ত থেকে’ বের হতে পারছে না। ওই অধ্যায় আসলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো, সেখান থেকে উত্তরণের উপায়গুলোর বিষয়ে আমাদের ছেলে-মেয়েদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই কারিকুলাম নিয়ে তো প্রপাগান্ডা নতুন না। গঠনমূলক সমালোচনা যত এসেছে তার চেয়ে প্রপাগান্ডা বেশি। একইভাবে হিজড়াদের নিয়ে অধ্যায়টাকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে ইন্টারপ্রেট করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিষয়টিকে বিতর্কিত করে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে আরও ভার্নারেবল করা হচ্ছে।’ 

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যক্রম) অধ্যাপক মশিউজ্জামান বলেন, ‘আসিফ মাহতাব গল্পটির ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গল্পের কোথাও ট্রান্সজেন্ডার শব্দটি লেখা হয়নি, লেখা হয়েছে থার্ড জেন্ডার। এ গল্পের মাধ্যমে থার্ড জেন্ডারও (হিজড়া) যে মানুষ এ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা সৃষ্টির বৈচিত্র্য, এটাকে অস্বীকার করা সম্ভব না।’

মহিলা পরিষদের বিবৃতি

হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ আখ্যায়িত করে শিক্ষা কারিকুলামের বিরুদ্ধে কিছু মানুষ অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে গতকাল বুধবার জানানো হয়, হিজড়া জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য প্রচার করার মাধ্যমে দেশের স্বাভাবিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এই জনগোষ্ঠীর জীবনকে নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের এই জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নেতিবাচক, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ও আচরণ অগ্রহণযোগ্য এবং মানবাধিকারের পরিপন্থি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা