বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:০৫ পিএম
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:৩৮ পিএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের অ্যাকাডেমিক মিটিংয়ে দুই শিক্ষকের মধ্যে কোর্স বণ্টন নিয়ে মারামারি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উপাচার্য ড. এএফএম আবদুল মঈনও ঘটনার বিষয়ে অবগত বলে জানিয়েছেন। তবে কোনো শিক্ষকই লিখিত অভিযোগ দেননি বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১২১তম অ্যাকাডেমিক সভায় দ্বিতীয় সেমিস্টারের কোর্স ভাগাভাগি নিয়ে সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান আবু বকর ছিদ্দিক (মাসুম) ও আলী মোর্শেদ কাজেমের মধ্যে মারামারি হয়। উপস্থিত অন্য শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় সহকারী অধ্যাপক আবু বকর ছিদ্দিকের চশমা ভেঙে যায় এবং আলী মোর্শেদ কাজেমের ব্লেজার ও শার্ট ছিঁড়ে যায়। এ ছাড়া উভয়ের চোখে-মুখেই আঘাতের দাগ দেখা যায়।
এ ব্যাপারে জানতে শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিককে (মাসুম) ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। আর অভিযুক্ত আলী মোর্শেদ কাজেম কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এ বিষয়ে বিভাগটির প্রধান আবু বক্কর সিদ্দিক সোহেল বলেন, ‘কোর্স ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে। এর বাইরে আমি কোনো মন্তব্য করব না।’
দুই দিন ধরে শিক্ষকদের মারামারির ঘটনা ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকার-ইঙ্গিতে এ বিষয়ে কথা বলছেন। তবে কোনো শিক্ষকই নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধ্যাপক পদমর্যাদার এক শিক্ষক বলেন, ’এটা কখনোই শিক্ষকসুলভ আচরণ নয়। শিক্ষার্থীরা একটা ব্যাড এক্সাম্পল পেল এ ঘটনায়। এ ঘটনায় আমরা বিব্রত।’
সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার আরেক শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের মূল্যবোধগুলো ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। যার ফল এই আলোচিত ঘটনা। আমাদের এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আরও প্রফেশনালিজমের সঙ্গে বিষয়গুলো হ্যান্ডেল করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন বলেন, ‘আমি শিক্ষক হিসেবে এ ঘটনায় বিব্রত। আইন অনুষদের শিক্ষকরা আমার কাছে এসেছিলেন। তারা এ ঘটনায় অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন আমাকে। সামনের দিনে তারা মিলেমিশে কাজ করবেন বলে কথা দিয়েছেন। তবে কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হতো।’