ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:২৬ এএম
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১:৩০ এএম
খাদিজাতুল কুবরা
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বিনা বিচারে প্রায় ১৫ মাস কারাগারে বন্দি থাকার পর ২০ নভেম্বর মুক্তি পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা। কারামুক্ত হলেও বর্তমানে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে কষ্টে দিন পার করছেন তিনি। এখনও ঠিক হয়নি মানসিক অবস্থার। তবে এই শিক্ষার্থী এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে নিয়মিত হয়েছেন। স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে শিক্ষকরাও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
খাদিজার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন কারাভোগের ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন খাদিজা। এরই মধ্যে কিডনিতে পাথরসহ মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভুগছেন তিনি। কারামুক্তির পর টানা চিকিৎসা চললেও এখনও শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।
খাদিজার বড় বোন সিরাজুম মুনিরা বলেন, খাদিজার কিডনিতে পাথর রয়েছে। মেরুদণ্ডের জটিলতায় সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। সব মিলিয়ে তিনি শারীরিকভাবে এখনও অনেক অসুস্থ। আমরা চিকিৎসক দেখিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা চালাচ্ছি।
খাদিজার সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারামুক্তির দিনই সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় বসেছিলেন খাদিজা। মঙ্গলবার তার তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। স্বাভাবিক পরিবেশ গড়ে তুলে খাদিজাকে মানসিকভাবে শক্ত করে তুলতেও সহযোগিতা করা হচ্ছে।
নাসরিন নাইমা নামের খাদিজার এক বান্ধবী বলেন, খাদিজা এখন দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছেন। আমরা তৃতীয় বর্ষে। আমাদের সব বন্ধুবান্ধবই ওকে সহযোগিতা করছেন। বই-নোটস দিয়ে তাকে সহযোগিতা করছেন পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য।
একাডেমিক বিভিন্ন সমস্যাসহ যেকোনো প্রয়োজনে খাদিজার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিভাগের শিক্ষকরা। খাদিজার স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে বিভাগের পক্ষ থেকে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেজবাহ আলম সওদাগর বলেন, খাদিজা সবগুলো পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তার বাকি থাকা মিডটার্ম পরীক্ষাগুলো নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাকে শিক্ষকরা যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করবেন। তার স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
সিরাজুম মুনিরা বলেন, খাদিজার পরীক্ষা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। ভাইভা বাকি। নতুন সেমিস্টার শুরু হলে ক্লাসে অংশ নেবে সে।
অনলাইনে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচার এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানায় দুটি মামলা করে পুলিশ।
২০২২ সালের মে মাসে পুলিশ দুই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সেই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে ছিলেন খাদিজা।
ওই মামলায় বিচারিক আদালতে কয়েক দফায় জামিন আবেদন নামঞ্জুরের পর তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। পরে সেই রায় চেম্বার আদালতে স্থগিত হয়। ১৬ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের আপিল বেঞ্চ খাদিজার হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন। ২০ নভেম্বর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান খাদিজা।