বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৩ ০৯:৪৭ এএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৩ ১১:২৬ এএম
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকবাক্স। প্রবা ফটো
উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। নামের সঙ্গেই বোঝা যায় প্রযুক্তির সঙ্গে কতটা পরিচিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একসময় হাবিপ্রবির ডাকবাক্সে অফিসিয়াল চিঠির পাশাপাশি আসত ব্যক্তিগত চিঠিপত্রও। কিন্তু এখন আর সেই আগের মতো আসে না চিঠি। চিঠির স্থান দখল করে নিয়েছে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম। নথিপত্র পাঠানো হচ্ছে ইমেইলে। ডিজিটাল যুগে ডাকঘরের আবেদন যেন দিন দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। হয়তো আগামী শিশুদের সঙ্গে ডাকবাক্সের দেখা হবে জাদুঘরে। তবে শিক্ষকদের অফিসিয়াল চিঠিপত্র থেমে নেই। প্রতিদিন শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নথিপত্র পোস্ট অফিসে জমা পড়ে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এ ডাকবাক্স রয়েছে। বর্তমানে চিঠি বিলির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন মো. সাদেকুল ইসলাম ও অতুল চন্দ্র রায় নামে দুজন ডাকপিয়ন।
পোস্টমাস্টার বিদ্যুৎ বলেন, ডাকবাক্সে এখানকার চিঠিপত্র আসে বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত। এখানে মামলা-মোকদ্দমার চিঠি আসে, অফিসিয়াল চিঠি আসে। ব্যক্তিগত চিঠিও আসে তবে তার সংখ্যা খুবই কম।
তিনি বলেন, ‘পোস্ট মেশিনের মাধ্যমে চিঠিগুলো বিতরণ করা হয়। প্রতিদিন কত চিঠি আসে এবং কত পাঠানো হয় তা পোস্ট মেশিনের মাধ্যমে জানা যায়।’
ডাকপিয়ন সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘অফিসিয়াল চিঠিপত্র নিয়মিত আসে। কিন্তু বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ব্যক্তিগত চিঠি আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে। সবাই এখন মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামে তথ্য আদানপ্রদান করছে। ফলে ডাকবক্সে ব্যক্তিগত চিঠির সংখ্যা কমে গেছে।’
সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জেনিস বলেন, ছোটবেলায় প্রচুর চিঠি লেখা হতো। কিন্তু সেই চিঠিগুলো কখনও ডাকবাক্সে বন্দি হতো না। কারণ চিঠিগুলো লেখা হতো পরীক্ষার খাতায়। নম্বরের জন্য লেখা হতো চিঠি। তবে সেই চিঠিগুলোর নান্দনিক মূল্য কম ছিল না। চিঠির শুরুতেই একটি শব্দ থাকত- ‘প্রিয়’। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে চাপা পড়ে গেছে ‘প্রিয়’ শব্দটি। প্রিয় লেখার স্থানে জায়গা করে নিয়েছে ‘ক্রাশ’ শব্দটি। মেসেঞ্জার আর হোয়াটসঅ্যাপের দাপটে ডাকবাক্সগুলো এখন ফাঁকা থাকে। আগের মতো ডাকে কেউ পাঠায় না ব্যক্তিগত চিঠি। সেখানেও হয়তো নানাবিধ দাপ্তরিক চিঠির স্থান হয়। কিন্তু সেই চিঠিগুলোয় কখনও ‘প্রিয়’ সম্বোধন থাকে না। হাবিপ্রবির ডাকবাক্স ‘প্রিয়’ দিয়ে ভরে যাক সেই কামনাই করছি।
প্রিয়জনদের নিয়মিত চিঠি আদানপ্রদানের মাধ্যমে ভাববিনিময়ের চেষ্টাই ডাক যোগাযোগব্যবস্থাকে পুনরায় বাঁচিয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।