চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ২০:০৬ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ২০:২৫ পিএম
এইচএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর চট্টগ্রামের সরকারি মহসীন কলেজের শিক্ষার্থীদের উল্লাস। প্রবা ফটো
গত বছর শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তিন ঘণ্টায় লিখেছিল তিনটি প্রশ্ন। এবার একই সময়ে শিক্ষার্থীদের লিখতে হয়েছে পাঁচটি প্রশ্ন। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা গতবার তিন ঘণ্টায় লিখেছে পাঁচটি প্রশ্ন, এবার একই সময়ে তাদের লিখতে হয়েছে সাতটি।
সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ায় চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার কমেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, করোনাপরবর্তী সময়ে বারবার সিলেবাস পরিবর্তন, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস থেকে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষাগ্রহণসহ নানা কারণে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল খারাপ হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রস্তুতি গ্রহণে সময় স্বল্পতা, শহরের শিক্ষার্থীদের তুলনায় গ্রামের শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে থাকা। এই তিন কারণে পাসের হার কমেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে।
তবে ভিন্ন মন্তব্য করেছে অভিভাবকরা। তারা মনে করে, করোনা মহামারিপরবর্তী সময়ে শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে কলেজগুলো খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। যার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলে। যে কারণে টানা তিন বছর ধরে পাসের হার কমছে।
শিক্ষা বোর্ডের গত চার বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে শতভাগ শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণার পর ২০২১ সাল থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ধারাবাহিকভাবে কমছে পাসের হার। ২০২১ সালে যেখানে পাস করে ৮৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী, সেখানে ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৩ সালে পাস করেছে ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২৭৯টি কলেজের ১ লাখ ৩ হাজার ২৪৮ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৯৪৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৫ হাজার ৯০৩ জন উর্ত্তীণ হয়। এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৩৩৯ জন। এই হিসাবে এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার, জিপিএ-৫ দুটোই কমেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় দুই বছর সময় দেওয়া হতো। এবার শিক্ষার্থীরা ১৮ মাস পড়ে পরীক্ষা দিয়েছে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে। এটা ফলাফল খারাপ করার গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
এ সর্ম্পকে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে এটা ঠিক। কিন্তু আপনি যদি স্বাভাবিক সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে ফলাফল ভালো করেছে শিক্ষার্থীরা। করোনা মহামারির আগে ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ। সেখানে এবার পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। মাঝখানে তিন বছর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এবার আমরা স্বাভাবিক সময়ের মতো পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা নিয়েছি। যে কারণে এবার যারা পাস করেছে, তারা প্রকৃতপক্ষে মেধাবী। স্বাভাবিক সময়ের মতো পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে।’
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার খারাপ হওয়ার পেছনে বরাবরের মতো জেলা উপজেলার ফলাফল দায়ী। ফলাফলে দেখা যায়, এবার চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় পাসের হার যেখানে ৮৫ দশমিক ১৯ শতাংশ সেখানে গ্রামীণ এলাকায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ ছাড়া কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৭০ শতাংশ, রাঙামাটি জেলায় পাসের হার ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং বান্দরবান জেলায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। এই হিসাবে দেখা যায়, জেলা-উপজেলার ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণে শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফল খারাপ হয়েছে। জেলা-উপজেলার ফলাফল যদি আরও ভালো হতো তাহলে শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফল আরও ভালো হতো।