ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় প্রায় ১৫ মাস কারাভোগের পর আজ সোমবার মুক্তি পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা। কারামুক্ত হয়েই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় পরীক্ষা শুরুর প্রায় ঘণ্টাখানেক পর শিক্ষকদের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষায় বসেন খাদিজা। তবে বের হয়ে গেছেন পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই। পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে খাদিজা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শুধুমাত্র যোগ দেওয়ায় জন্যই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমার এখনও মনে হচ্ছে আমি কারাগারেই আছি। এখানে এসে কোনোমতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি। আগামী পরীক্ষাগুলোও দেব। আর কিছু বলতে চাই না।’
গতকাল রবিবার মুক্তির কথা থাকলেও খাদিজা গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান সোমবার সকাল (২০ নভেম্বর) ৯টার দিকে। মুক্তি পেয়ে পরীক্ষা দিতে কারা ফটক থেকেই বড় বোনের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। আজ তার দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ‘স্ট্যাটিসটিক্যাল অ্যাপ্রোচেস টু দ্য স্টাডি অব পকিটিক্স’ কোর্সের পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষা শুরু হয় সকাল ১০টায়। পরীক্ষার এক ঘণ্টা আগে কারামুক্ত খাদিজা ক্যাম্পাসে পৌঁছান ১১টার পর। শিক্ষকদের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষায় বসেন সাড়ে ১১টায়। তবে পরীক্ষার সময় ১টা পর্যন্ত হলেও খাদিজা হল থেকে বের হন এর আগেই।
খাদিজার বোন সিরাজুম মুনিরা বলেন, ‘খাদিজার গতকাল (রবিবার) মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। আজ সকাল ৯টায় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে। এরপর দ্রুত আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেই। এখানে পৌঁছাতেই সাড়ে ১১টা বেজে যায়। পরীক্ষার জন্য তেমন প্রস্তুতি নেই (খাদিজার)। আমরা চাচ্ছি, শুধু এটেন্ড করার জন্য। তাই আমরা ওকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি।’
মুনিরা আরও বলেন, ‘সে (খাদিজা) ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী হলেও ১৬তম আবর্তনের সঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছে। সেই এই ব্যাচের সঙ্গে পড়াশোনা কন্টিনিউ করবে।’
গত ১৬ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ খাদিজাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন। আজ সোমবার থেকে খাদিজার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় দ্রুত আদেশের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয় প্রধান বিচারপতির কাছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি যথাযথ নির্দেশ প্রদান করেন।
অনলাইনে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচার এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজাতুল কুবরার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানায় পৃথক দুটি মামলা করে পুলিশ।
২০২২ সালের মে মাসে পুলিশ দুই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সেই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল খাদিজাতুল কুবরার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর খাদিজাতুল কুবরাকে গ্রেপ্তার করে নিউমার্কেট থানা পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে ছিলেন খাদিজা।
ওই মামলায় বিচারিক আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুরের পর তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। এ জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ। ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে।
গত ১৬ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ খাদিজার হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।