বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৩ ০৯:০৮ এএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৩ ০৯:২৮ এএম
খাদিজাতুল কুবরা।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আটক থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা জামিন পাওয়ার পর চারদিন পেরিয়ে গেলেও মুক্তি পাননি। গতকাল রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত তার আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা কারা ফটকে অপেক্ষা করলেও জামিন মেলেনি খাদিজার। জামিন না মেলায় আজ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাও দিতে পারছেন না তিনি।
সোমবার (২০ নভেম্বর) সকালে খাদিজার আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া কারামুক্ত না হওয়ার বিষয়টি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে খাদিজার জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দুটি আপিল ডিসমিস হয়। এরপর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে জামিননামা ও আদেশের কপি পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো এক ক্লিয়ারেন্সের কথা বলে কারা কর্তৃপক্ষ রবিবার রাত দশটা পর্যন্ত চেষ্টা করার পরও খাদিজাকে ছাড়লেন না। এরই মধ্যে সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান সাহেবকে আমি নিজে ফোন দিয়েছি। ফোন না ধরায় মেসেজে অনুরোধ করেছি, তাতেও কাজ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, উচ্চ আদালত এ আপিল বিভাগে যাকে জামিন দেয় তাকে ছাড়ার জন্য কার ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয় আমার জানা নেই। এটা স্পষ্টত আদালত অবমাননা। বিচার বিভাগের ওপর জেল কর্তৃপক্ষের খবরদারি চলার কোনো আইন নেই।
খাদিজাতুল কুবরার বড় বোন সিরাজুম মুনিরা বলেন, ‘আমরা রবিবার সারা দিন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে অপেক্ষা করেছি। কারা কর্তৃপক্ষ উপর মহলের আদেশ না আসলে খাদিজাকে ছাড়বেনা বলেছে। অথচ হাইকোর্টের আদেশের কপি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমার বোন তাহলে কবে ছাড়া পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাত দশটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। আমার বোন যদি গতকাল ছাড়া পেত আজ সেমিষ্টার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারত। সেটিও আর হচ্ছেনা।’
এর আগে গত ১৬ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের আপিল বেঞ্চ খাদিজাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।
আজ সোমবার থেকে খাদিজার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় দ্রুত আদেশের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয় প্রধান বিচারপতির কাছে। যার প্রেক্ষিতে তিনি যথাযথ নির্দেশ প্রদান করেন। ফলে ওইদিনই আদেশের কপিতে চারজন বিচারপতির স্বাক্ষর নেওয়া সম্ভব হয়। শুক্রবার এবং শনিবার দুইদিন সাপ্তাহিক ছুটির পর রবিবার বাকি কাজ সম্পন্ন করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে জামিননামা ও আদেশের কপি পাঠানো হয়। খাদিজা রবিবার মুক্তি পাবেন সেই প্রত্যাশায় সকাল থেকেই তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইনে সরকার বিরোধী বক্তব্য প্রচার এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজাতুল কুবরার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানায় পৃথক দুটি মামলা করে পুলিশ।
২০২২ সালের মে মাসে পুলিশ দুই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সেই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল খাদিজাতুল কুবরার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর খাদিজাতুল কুবরাকে গ্রেফতার করে নিউমার্কেট থানা পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে আছেন তিনি।
ওই মামলায় বিচারিক আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুরের পর তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। এ জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ। ধারাবাহিতকায় বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। গত ১৬ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের আপিল বেঞ্চ খাদিজার হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।