বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৩ ০৯:০২ এএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৩ ১০:৪৮ এএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রবেশের দুটি ফটকে তালা ও ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। প্রবা ফটো
বিএনপির ডাকা তিন দিনের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রবেশের দুটি ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের ২ ও ৪ নম্বর ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পর ফটক দুটি দীর্ঘক্ষণ তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরে সকাল ৮টার দিকে ফটকের তালা ভেঙে যাতায়াতব্যবস্থার সুযোগ তৈরি করে দেন শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তারক্ষীরা। এরপর দ্বিতীয় ফটক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ভেতরে প্রবেশ করে।
তালা দেওয়ার কথা স্বীকার করে জবি শাখা ছাত্রদল সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, ‘এক দফা দাবি আদায় এবং বিএনপির শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে পুলিশলীগ ও আওয়ামী লীগের বর্বর হামলা ও গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আমরা অবরোধ পালন করছি। অবরোধের তৃতীয় দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গেটে তালা ঝুলিয়েছি এবং জনগণের স্বার্থরক্ষার অবরোধ সফল করার লিখিত ব্যানার লাগিয়ে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ফ্যাসিস্ট সরকারের আজ্ঞাবহ প্রশাসন জনগণের স্বার্থরক্ষার অবরোধকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখবেন। আর যদি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ না রাখেন সামনের যেকোনো সহিংসতা এবং অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী থাকবেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল বলতে চায়, আমাদের এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যতই হামলা মামলা গ্রেপ্তার করুক আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি, ইনশা আল্লাহ জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই থাকব।
সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্ল্যা বলেন, সরকার যত বেশি বাধা ও হামলা-মামলা দেবে, সরকারের ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গদের পতন তত ভয়ংকর হবে। যখন কোনো দেশে ফ্যাসিস্ট সরকার চেপে বসে, তখন সেই সরকার প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করে। বর্তমানে কিছু স্বার্থান্বেষী কর্মকর্তা, এত দুর্নীতি করছে, ভবিষ্যতে তাদের বিচার হবে ভয়ে জনগণের সেবক না হয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের দালালি করছে। এভাবে পুলিশ দিয়ে, গুন্ডাবাহিনী দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এ সরকারের পতনে যে দুর্বার আন্দোলন গড়ে উঠেছে তার সামনে থেকে ভূমিকা রাখছে এবং রাখবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের বারবার কল দেওয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি।