× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

৫ বছরেও সংকট কাটেনি ডে-কেয়ার সেন্টারের

ইউছুব ওসমান, জবি

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৩ ০৮:৫৯ এএম

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৩ ০৯:৩৪ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ডে-কেয়ার সেন্টার। প্রবা ফটো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ডে-কেয়ার সেন্টার। প্রবা ফটো

২০১৮ সালের ৩ মার্চ শিক্ষক ডরমেটরি ভবনের তৃতীয়তলায় অপরিকল্পিতভাবে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ডে-কেয়ার সেন্টার। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিশুদের অফিস সময়ে দেখাশোনার জন্য সেন্টারটির যাত্রা শুরু হলেও নানামুখী সংকটে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের। নিজস্ব অবকাঠামো না থাকা, অপ্রতুল কর্মচারী, শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খেলনা ও আসবাবপত্রের অভাব, তাদের জন্য আধুনিক কোনো ব্যবস্থাপনা না থাকাসহ নানামুখী সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ডে-কেয়ার সেন্টারটি। সংকটে জর্জরিত ডে-কেয়ার সেন্টারটি ব্যবহারে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের পেছনে অবস্থিত শিক্ষক ডরমেটরির তৃতীয়তলায় ছোট আটটি কক্ষ নিয়ে গড়ে উঠেছে ডে-কেয়ার সেন্টার। ছোট ছোট এসব কক্ষে কিছু খেলনা, তাক, ফ্লোর বিছানা, চেয়ার, টেবিল, টিভি ও রঙিন কাগজের ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে ডে-কেয়ার সেন্টারটি; যা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। সেখানে ৬ মাস বয়সি থেকে ৫-৬ বছরের ৪৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত সেবা নেয় ২০-এর বেশি শিশু। একজন সুপারভাইজারসহ মাত্র তিনজন নারী কর্মচারী দিয়েই চলছে সেন্টারটি। শিশুদের জন্য নেই আধুনিক কোনো ব্যবস্থাও।

বর্তমানে ডে-কেয়ার সেন্টারটিতে কর্মী সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একজন সুপারভাইজারসহ মাত্র তিনজন কর্মচারী দিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও প্রতিষ্ঠার চার বছরেও কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। করোনা মহামারির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা চলমান থাকলেও বন্ধ ছিল এ সেন্টারের কর্মচারীদের বেতন। এ ছাড়া ইউজিসির নিজস্ব বেতন কাঠামোর অধীনে না হওয়ায় চার বছরেও বেতন বাড়েনি কর্মচারীদের। এভাবে চলতে থাকলে পেশা পরিবর্তন করবেন বলে জানিয়েছেন ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মচারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সামসাদ আরা বাঁধনের দেড় বছরের শিশু সামিয়া থাকে এই ডে-কেয়ার সেন্টারে। সামিয়ার মা বাঁধন বলেন, এখানে শিশুদের দেখাশোনা করার লোক একেবারেই কম। তাদের আবার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তখন আরও সমস্যা হয়। কোনো দিন শিশুর সংখ্যা বেশি হলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়।

রায়হান নামের আরেক শিশুর মা সুমাইয়া খাতুন বলেন, ডে-কেয়ারে যেসব খেলনা ও আসবাবপত্র রয়েছে তা শিশুদের প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। দিনের বেশিরভাগ সময় শিশুরা এখানেই অবস্থান করে। তাদের জন্য আধুনিক ব্যবস্থাপনা না করা হলে তাদের সুস্থ ও সঠিক বিকাশ ঘটবে না। লোকসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক ব্যবস্থাপনা করা দরকার। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডে-কেয়ার সেন্টারের সুপারভাইজার শাকিলা জামান সুবর্ণা জানান, সেন্টারের আসবাবপত্র ও বিভিন্ন ধরনের খেলনা কেনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয় না। আমাদের নিজেদের ব্যবস্থাপনাতেই সব করতে হয়। আর্থিক সংকট থাকায় চাইলেও সবকিছু করা সম্ভব হয় না।

তিনি আরও বলেন, এত অল্পসংখ্যক কর্মচারী দিয়ে এত বেশি শিশু সামলানো কষ্টকর। এ মুহূর্তে অন্ততপক্ষে আরও দুজনকে নিয়োগ দেওয়া খুবই জরুরি। আমাদের বেতন-ভাতাও একেবারেই কম। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পেশা পরিবর্তন করতে হবে।

ডে-কেয়ার সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুস সামাদ বলেন, ডে-কেয়ার সেন্টার থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী জানেন না। তাই যথেষ্ট শিশু না পাওয়ায় আয়ও কম হয়। প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ডে-কেয়ার সেন্টার বিষয়ে অবহিত করতে সব বিভাগের চেয়ারম্যানদের চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু তারা অবহিত না করায় এটি নিয়ে অজ্ঞতা আছে। সেজন্য সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। সমস্যাগুলোর সমাধানে উপাচার্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে একটা ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরির লক্ষ্যে আমরা ইউজিসিকে নোটিস পাঠিয়েছি। বাজেট পেলে কয়েকজন নিয়োগ দেব। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা