জবির ফার্মেসি বিভাগ
ইউছুব ওসমান, জবি
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৩ ০৯:২২ এএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৩ ১০:৪৪ এএম
বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রার তিন বছর পর ২০০৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রতিষ্ঠিত হয় ফার্মেসি বিভাগ। প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পেরোলেও অপর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক সংকট, অপর্যাপ্ত গবেষণা ল্যাবসহ নানামুখী সংকটে রয়েছে বিভাগটি। দীর্ঘদিনেও অর্গানোগ্রামের শর্তাবলি পূর্ণ না করতে পারায় বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে বিভাগটি। এতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ৪র্থ তলায় অবস্থিত ফার্মেসি বিভাগে দুটি ল্যাবে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেন। আরেকটি কেমিক্যাল স্টোর কক্ষে রাখা হয়েছে ল্যাবের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ। নতুন একটি ল্যাব পুরোপুরি চালু না হলেও শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছেন। সবখানে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি যত্রতত্রভাবে রাখা। অনেক মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক থাকলেও তা অপসারণ না করায় রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
চলমান দুটি ল্যাবেই নেই কোনো ল্যাব ইন্সট্রাক্টর। এতে ল্যাবে ক্লাস করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিভাগটির শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরাও মানছেন না ল্যাব ব্যবহারের যথাযথ নিয়ম। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ইনস্ট্রাক্টরবিহীন ল্যাব ক্লাসের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি বিভাগটি পরিদর্শনে এসে অপর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, ল্যাবের ইনস্ট্রাক্টর না থাকাসহ নানা সংকট ও কার্যক্রমে ত্রুটি খুঁজে পায় বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল। পরে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ল্যাব সংকট দূর করা, ল্যাব ইনস্ট্রাক্টর নিয়োগ ও শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধিসহ অর্গানোগ্রামের শর্তাবলি পূরণ করে ফার্মেসি কাউন্সিলে রিপোর্ট পাঠাতে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় সংস্থাটি। অন্যথায় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে বি-ফার্ম (ব্যাচেলর অব ফার্মেসি) কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির নিষেধাজ্ঞা দেয় সংস্থাটি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনাময় এ বিভাগটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিভাগে ছয়টি ব্যাচে মোট ২৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। শ্রেণিকক্ষ রয়েছে তিনটি। ল্যাব রয়েছে দুটি ও একটি প্রক্রিয়াধীন। বিভাগে ১৮ জন শিক্ষক থাকলেও ছয়জনই রয়েছেন শিক্ষা ছুটিতে। বিভাগে মাত্র দুজন এমএলএসএস (পিওন) রয়েছেন।
এদিকে ফার্মেসি কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভাগে সাতটি ল্যাব, চারটি শ্রেণিকক্ষ থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিটি ল্যাবের আয়তন ৫০০ বর্গফুট থাকার শর্ত থাকলেও বর্তমানে বিভাগটিতে থাকা দুটি ল্যাবের কোনোটিই ২০০ বর্গফুটের নয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে রাসায়নিক রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা সংরক্ষণ করার মতো জায়গা নেই। এতেই বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে বিভাগটি।
এদিকে বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের নিষেধাজ্ঞায় পড়ার পর থেকেই বিভাগটিকে ঘিরে নানামুখী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এমন নিষেধাজ্ঞায় বিভাগের সম্মানহানি হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব সংকট দূর করার দাবি শিক্ষার্থীদের।
শাহিন আলম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের যেসব সংকট রয়েছে তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নইলে এমন নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রে আমাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সবাই আমাদের ভিন্ন চোখে দেখবে।
বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গার সংকট। এত অল্প সময়ের মধ্যে ফার্মেসি কাউন্সিলের সব শর্ত পূরণ করা অসম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা বরাদ্দ দিলে বিভাগের সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তখন আমরা বাকি সংকট দূর করার কাজ করতে পারব।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমি বিভাগ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিভাগে কী কী সংকট রয়েছে, কী কী প্রয়োজন তা লিখিত আকারে দিতে বলেছি। ল্যাব ইনস্ট্রাক্টর নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে ফার্মেসি কাউন্সিলের সব শর্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের এখানে অনেক জায়গার সংকট। চাইলেই আমরা এই সংকট দূর করতে পারব না।’