× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ঘোষণা দিয়েও শাটল ট্রেনে বগি বাড়াতে নেই উদ্যোগ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:৫৬ পিএম

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৩ ২০:৫৫ পিএম

শাটল ট্রেনে উঠতে স্টেশনে প্রতিদিনই ভিড় করেন শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো

শাটল ট্রেনে উঠতে স্টেশনে প্রতিদিনই ভিড় করেন শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো

দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত হওয়ার জেরে ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের মুখে শাটল ট্রেনে বগি ও এর ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, এত কম সময়ে আশ্বাস বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিষয়টিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবেই দেখছেন শিক্ষকরা।  

শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম শাটল ট্রেন। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী এই ট্রেনে যাতায়াত করেন। বর্তমানে দুটি ট্রেন প্রতিদিন সাতবার করে ছাত্রছাত্রী পরিবহন করে থাকে। ট্রেনগুলোতে ১০টি করে বগি আছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিবছর শিক্ষার্থী বাড়লেও বাড়েনি ট্রেনের ট্রিপের সংখ্যা। করোনাপরবর্তী সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ডেমু ট্রেনও।

আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মিছবাহ বলেন, ’চ‌বি প্রশাসনের প্রশাসনিক অন‌্যতম কাজ হ‌লো‌ শিক্ষার্থী‌দের সঙ্গে প্রহসন করা। শাট‌লের নানা অব‌্যবস্থাপনার কার‌ণে শিক্ষার্থী‌দের চরম ভোগান্তি পোহা‌তে হয়। শিক্ষার্থীরা অনেকবার চ‌বি প্রশাসন‌কে শাট‌লের ব‌গি বৃ‌দ্ধিসহ বি‌ভিন্ন দা‌বি জানালেও কর্তৃপক্ষ আশ্বা‌সের ম‌ধ্যেই সীমাবদ্ধ থা‌কে।’

গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে শাটল ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৬ শিক্ষার্থী আহত হন। এর জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক অবরোধ করে উপাচার্যের বাসভবন, পুলিশ ফাঁড়ি, টিচার্স ক্লাব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধরা।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ ইয়াসিন সাকিব বলেন, ’বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এত বড় দুর্ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও শাটল বগি ও শিডিউল বৃদ্ধির কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রমাণ করে যে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রশাসন যদি ইচ্ছা করে কোনো পদক্ষেপ না নেয় অথবা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের উচিত দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, রাতে শাটলে পর্যাপ্ত জায়গা থাকার পরেও ছাদে ওঠার কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে।‌ প্রশাসন অনেক আগে থেকেই রেলওয়েকে বগি ও শিডিউল বাড়ানোর কথা বলেছে, কিন্তু তারা আমলে নেয়নি। তবে এ প্রসঙ্গে ভিন্ন বক্তব্য এসেছে রেল বিভাগের তরফ থেকে। 

বগি ও শিডিউলের বিষয়ে জানতে চাইলে চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কেএম নুর আহমদ বলেন, ’এক মাসের মধ্যে কি এটা করা যায়? আমরা বিষয়টি দেখছি, এটা প্রক্রিয়াধীন।’

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ’বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ট্রেনের জন্য আমাদের ভাড়া দেন। তারা যদি চিঠি দিয়ে বলেন আমরা অবশ্যই বগি ও শিডিউল বাড়াব। আপনি এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলুন।’

শাটল ট্রেনে প্রতিদিন গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে নতুন আরেকটি ব্যাচের (২০২২-২৩ সেশন) ক্লাস শুরু হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীর চাপ আরও বেড়েছে। ট্রেন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বগির লাইট নষ্ট। এ ছাড়াও নানা সমস্যা আছে বগিগুলোতে। 

শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও শাটলে বহিরাগতদের আনাগোনা নিত্যদিনের।

রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিনা চৌধুরী বলেন, ’প্রতিদিন কোনো না কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে শাটলে। প্রতিনিয়ত উৎকণ্ঠায় থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। শুধু প্রশাসনের সুনজরই পারে শাটল সমস্যা থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে। তাই নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি শাটলের বগি বাড়ানো সময়ের দাবি।’

দুর্ঘটনার পর বগি ও শিডিউল বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে গত এক মাসে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি না দেওয়াকে প্রশাসনের প্রতারণা হিসেবে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল হক বলেন, ‘আমার কাছে অবাক লাগছে, ঘোষণা দেওয়ার পরে এত দিনে প্রশাসন একটা চিঠিও দিতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে। এটা রীতিমতো প্রতারণা। এটা কাম্য নয়। এত বড় দুর্ঘটনার পরেও তাদের টনক নড়ছে না, এটা আমাদের দুর্ভাগ্য।‘

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা