বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮:৩২ পিএম
বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মো. ফারুক আহম্মেদ। প্রবা ফটো
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ক্যাডার কম্পোজিশনের সুরক্ষা এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। দাবি আদায়ে তারা আগামী ২ অক্টোবর সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করবে।
মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সমিতির বগুড়া জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি শাহ্ এয়তেবাড়িয়া কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফারুক আহম্মেদ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, এক দিনের কর্মবিরতি পালনের পরও যদি দাবি পূরণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হয়, তাহলে ১০ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিনের কর্মবিরতি পালন করা হবে। অপর তিনটি দাবি হলো- পদোন্নতি, পদ সৃজন এবং স্কেল আপগ্রেডেশন। সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রবর্তিত ‘কৃত্য পেশা ভিত্তিক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠারও দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকারি কলেজগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা স্তরে প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের পদ সৃজন অপরিহার্য। বর্তমানে সরকারি কলেজসহ শিক্ষা প্রশাসনে কর্মরত ১৬ হাজার কর্মকর্তার বাইরে আরও ১২ হাজার ৪৪৪টি পদ সৃজনের প্রস্তাব করা হয়। ৯ বছর আগের সেই প্রস্তাব আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে শিক্ষা ক্যাডারবহির্ভূতদের শিক্ষা ক্যাডারের তফসিলভুক্ত পদে নিয়োগ বাতিলের দাবি করে বলা হয়, বিসিএস কম্পোজিশন এবং ক্যাডার রুলস অনুযায়ী প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষাস্তর সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের নবম গ্রেডের ওপরে সব পদ শিক্ষা ক্যাডারের তফসিলভুক্ত। এসব পদে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা বাদে অন্য কারও পদায়নের সুযোগ নেই। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫১২টি পদ শিক্ষা ব্যাডারের তফসিলবহির্ভূত করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগ বিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি সুস্পষ্টভঅবে শিক্ষা ক্যাডারের অস্তিত্বের ওপর আঘাত।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ক্যাডারের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলা হয়, শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সেক্টরে ৪র্থ গ্রেডের ওপর কোনো পদ নেই। অন্য ক্যাডার কর্মকর্তারা পঞ্চম গ্রেড হতে তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি পান। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারে অধ্যাপক পদটি সর্বোচ্চ হলেও সেটিকে চতুর্থ গ্রেডে রাখা হয়েছে। এটিকে তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করা এবং আনুপাতিক হারে প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রেডের পদ সৃষ্টি করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এটিএম মাহবুবুল হাসান ক্যাডার বৈষম্য রোধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে কৃত্য পেশা ভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার উদাহরণ টেনে বলেন, তখন একজন চিকিৎসককে স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব এবং একজন অধ্যাপককে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হতো। আমরা বঙ্গবন্ধু প্রবর্তিত সেই ব্যবস্থার পুনর্বহাল চাই।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি বগুড়া জেলা ইউনিটের সভাপতি অধ্যাপক এটিএম মাহবুবুল হাসান, বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জোহরা ওয়াহিদা রহমান, বগুড়া সরকারি সান্তাহার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, বগুড়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুন্নবীসহ বগুড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি কলেজের শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।