সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:২০ পিএম
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:৫৩ পিএম
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। প্রবা ফটো
পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করার চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছে সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১৯তম সভায় বহিষ্কারের ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ্ আজম ও রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী ওই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বহিষ্কারাদেশের চিঠিটি পাঠানো হলেও শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) তা জানাজানি হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তারকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পরীক্ষায় নকল করার দায়ে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হলো।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সানজিদা বলেন, ‘মানসিক হয়রানি, সামাজিকভাবে হেনস্তা ও যৌন নির্যাতনের মামলা থেকে বাঁচতে নকলের অভিযোগে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যখন ঘটনা ঘটেছিল তখন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? এক বছর পর এসে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমি অভিযোগ করার পর আমার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে ওই শিক্ষককে রক্ষা করতে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানসিক হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন বরাবর চিঠি দেন সানজিদা আক্তার। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি পিংকি রানী দে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সদস্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সুব্রত ভৌমিকের কাছেও অভিযোগ দেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৯ মার্চ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে চিঠি দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব। পরে এ ঘটনার দ্রুত সমাধান চেয়ে গত ২৩ আগস্ট উপাচার্য বরাবর আরেকটি চিঠি দেন ওই শিক্ষার্থী।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি পিংকি রানী বলেন, সানজিদা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েছে। সেগুলো আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমি তদন্ত করে গত ৩০ জুলাই উপাচার্য বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেছি। তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়নি। যে কারণে সিন্ডিকেট সভায় ওই শিক্ষককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শাহ্ আজম বলেন, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী সানজিদা আক্তারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানসিক হয়রানি ও শ্রেণি কক্ষে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলার যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।