বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩:১৪ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩:৩২ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র না হয়েও ছাত্রলীগের পদ বাগিয়ে নেওয়া ইউনুস মাতাব্বর। প্রবা ফটো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী না হয়েও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের পদ বাগিয়ে নেওয়া ইউনুস মাতাব্বরকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে আইন বিভাগ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশের পর যাচাই-বাছাই করে এ সিদ্ধান্ত নেয় শাখা ছাত্রলীগ।
মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহীম ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে হয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া ইউনুস মাতাব্বর মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র ও পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে প্রতারণার মাধ্যমে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়ে আইন বিভাগ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। বিষয়টি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নজরে আসার পর ঘটনার সত্যতা যাচাই করলে তার প্রতারণার বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া ইউনুস মাতাব্বরের কোনো অপকর্মের দায়ভার পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বহন করবে না। সেইসঙ্গে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ বরাবর সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ ‘ছাত্রলীগের পদ পেলেন বহিরাগত ইউনুস’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে।
ইউনুস মাতাব্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র নন। বিভাগের নথিপত্রেও এই নামের কোনো শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি। আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ইউনুস মাতব্বর নামে একজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন। তবে কিছুদিন পরই তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান।
অব্যাহতির বিষয়ে জানতে ইউনুস মাতাব্বরকে কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে একবার কল রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি কেটে দেন। পরবর্তীতে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিশ্বিবদ্যালয়ের আইন বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হাসান বলেন, ইউনুস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দিয়ে আমাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছে। আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানতাম না। কিন্তু সে যে এত বড় প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, সেটা আসলে আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহীম ফরাজি বলেন, ইউনুস যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না এটা তার বন্ধুরাও বুঝতে পারেনি। আমাদেরকে দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত দেখে আমরা তাকে পদ দিয়েছি। বিষয়টি আমার আগে জানা ছিল না। তাকে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা চাইলে শাস্তি দিতে পারি না, এটা আমাদের এখতিয়ারে নেই।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ইউনুস যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী না কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করবে, সেটা কখনোই হতে পারে না।