বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯:২৯ পিএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:৪৬ পিএম
ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি), বগুড়া। প্রবা ফটো
বগুড়ায় ছাত্রলীগ নেতা সজল ঘোষের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ তিন দফা দাবিতে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তদন্ত কমিটি কাজ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখা তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্যরা হলেন- অলটারনেটিভ মেডিসিনের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী। আইএইচটি ঢাকার সহকারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান এবং আইএইচটি বগুড়ার প্রভাষক ডা. আব্দুল কাদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত কমিটির এক সদস্য বলেন, ’সকাল থেকে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তদন্তে ছাত্রলীগ নেতা সজল ঘোষ, অধ্যক্ষের ভূমিকাসহ সব বিষয়কে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন ডকুমেন্টস জমা দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দাখিল করার চেষ্টা করব।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল ঘোষ বহিরাগত হয়েও দীর্ঘ এক যুগ ধরে ছাত্রাবাসের রুম দখল করে রেখেছেন। সেখানে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে পুরো ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিবেশ করে রেখেছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মারধর, হলে সিট বাণিজ্য, মাদক সেবন এবং পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে জোর করে টাকা নেন সজল।
আইএইচটির শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, ’২৯ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মামলা না দেওয়া হলে সজল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না। এরপর কলেজের এক শিক্ষার্থী বগুড়া সদর থানায় ২ সেপ্টেম্বর মামলা করলেও এখনও অভিযুক্ত সজল ঘোষকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাই আন্দোলনের ১৩তম দিন রবিবার দুপুর থেকে আবারও সড়ক অবরোধ করা হয়। পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্নিগ্ধ আখতার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সজল ঘোষকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে আমরা রাত ১০টায় রাস্তা থেকে সরে যাই।’
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্নিগ্ধ আখতার বলেন, ’আইএইচটির এক শিক্ষার্থী সজল ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আমরা সজল ঘোষকে দ্রুত গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করে যাচ্ছি। শিগগিরই শিক্ষার্থীদের ভালো খবর দেওয়া হবে। একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’
এদিকে ২৯ আগস্ট বিকাল থেকে সজল ঘোষের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা।
সজল ঘোষ বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। শিক্ষার্থী না হয়েও দীর্ঘ এক যুগ ধরে আইএইচটির ছাত্রাবাসে থাকেন সজল ঘোষ। সেখানে থেকে শিক্ষার্থীদের মারধর, হলে সিট বাণিজ্য, মাদক সেবন এবং পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে সজল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।