বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৭:০৭ পিএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮:১৪ পিএম
জবির আইন বিভাগ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পাওয়া ইউনুস মাতাব্বর। সংগৃহীত ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র না হয়েও ছাত্রলীগের পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনুস মাতাব্বর নামের এক বহিরাগতের বিরুদ্ধে। তিনি আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে আইন বিভাগ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ আদায় করে নিয়েছেন।
ইউনুস মাতাব্বর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহীম ফরাজির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়, সব কর্মসূচিতেই থাকে তার সরব উপস্থিতিতি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনুস মাতাব্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রই নন। আইন বিভাগের চলমান ব্যাচগুলোতে ইউনুস মাতাব্বর নামে কোনো শিক্ষার্থীর নাম নেই। বিভাগের নথিপত্রেও এই নামের কোনো শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার পরিচয় দেওয়া ব্যাচের সহপাঠীরাও তাকে ক্লাসে দেখেন না। কয়েকবার বিভাগের করিডোরে তাকে দেখা গেলেও ক্লাস-পরীক্ষাতেও ছিল না তার কোনো উপস্থিতি।
আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস ইউনুস মাতাব্বর বিভাগের শিক্ষার্থী না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখেছি ইউনুস মাতাব্বর নামে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে কোনো ছাত্র নেই। আর ছাত্রলীগের পদ তো আমরা দেইনা। ছাত্রলীগের উচিত ছিল যাচাই-বাছাই করে পদ দেওয়া। এখানে বিভাগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর যেহেতু সে আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী না, তাই আমরা কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারব না।
আরও জানা গেছে, ইউনুস মাতাব্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহীম ফরাজির ঘনিষ্ঠ অনুসারী রবিউল ইসলাম রবির মাধ্যমে। দুইজনেরই গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলায়। একই জেলায় বাড়ি হওয়ায় ইউনুস মাতাব্বরকে তিনি আইন বিভাগ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাইয়ে দিতে সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও আইন বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলামের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তার সঙ্গেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতেন ইউনুস।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হওয়ার পরও বিভাগীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক পদ পাওয়ায় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, সভাপতির এলাকার হওয়ায় এবং নিজের দল ভারি করতে বহিরাগতদের ছাত্রলীগের পদায়ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি পরাগ হোসাইন বলেন, এটি ছাত্রলীগের জন্য খুবই লজ্জাজনক। সভাপতির নিজ এলাকা হওয়ার পরেও সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কি না তা ভেরিফাই করেনি। এখানে বহিরাগত এনে দল ভারি করার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে ইউনুস মাতাব্বরকে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি কল কেটে দেন। পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আইন বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হাসান বলেন, ইউনুস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দিয়ে আমাদের সঙ্গে রাজনীতি করে। আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানতাম না। কিন্তু সে যে এতো বড় প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, সেটা আসলে আমাদের জন্য খুবই লজ্জার।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহীম ফরাজি বলেন, বিষয়টি আমার আগে জানা ছিল না। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হওয়ায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের সঙ্গে কথা বলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, ইউনুস যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী না কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করবে, সেটা কখনোই হতে পারে না।