জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ইউছুব ওসমান
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৮:৪১ এএম
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৫২ এএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি ক্যাফেটেরিয়া। অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের একমাত্র ভরসা এই ক্যাফেটেরিয়া। অবকাশ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত এই ক্যাফেটেরিয়ায় আসন সংখ্যা মাত্র ৬০। এর মধ্যে বেশকিছু আসন ভাঙা। শুধু আসন নয়, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- খাবারের দাম ও মান নিয়েও। নিম্নমানের খাবারে বেশি দাম রাখায় ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় বর্তমানে মোট টেবিল সংখ্যা ১২। আর প্রতিটি টেবিলে গড়ে আসন সংখ্যা ৫টি। সে হিসাবে মোট আসন রয়েছে ৬০টি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন সকালে ও দুপুরে খাবার নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার পেলেও বসার আসন পান না শিক্ষার্থীরা। অনেকে দাঁড়িয়ে খান, অনেকে আবার খাবার নিয়ে বাইরে গিয়ে খান। অনেক শিক্ষার্থীকে ক্যাফেটেরিয়ার সামনের শহীদ মিনারের বেদিতে বসে খাবার খেতে দেখা যায়।
আবার অনেক শিক্ষার্থীই দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খাবার পান না। এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় সকালের নাশতা। দুপুরের খাবারও শেষ হয় ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে। অল্প সময়েই খাবার শেষ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা। ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীকেই বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে বেশি দামে খাবার কিনে খেতে হয়।
এদিকে ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ও দাম নিয়েও অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। দফায় দফায় দাম বাড়ালেও দিন দিন মান কমছে বলে অভিযোগ। সকালের নাশতার জন্য ছোট আকারের দুটি পরোটা ও ডালের জন্য শিক্ষার্থীদের খরচ করতে হয় ৩০ টাকা। পরোটার আকার একেবারেই ছোট হওয়ায় দুটি পরোটায় নাশতা পূর্ণ হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এক টুকরো মাছ কিংবা মুরগির মাংস দিয়ে দুপুরের খাবার খেতে শিক্ষার্থীদের খরচ করতে হয় কমপক্ষে ৪৫ টাকা। সঙ্গে সবজি নিলে খরচ হয় ৬০ টাকা। তেহারি খেতে খরচ করতে হয় ৫০ টাকা। মাছ ও মুরগির মাংস পরিমাণে একেবারেই কম। সঙ্গে দুই টুকরো আলু দেওয়া হলেও তা দিয়ে সম্পন্ন হয় না দুপুরের খাবার।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সাকিব বলেন, ‘সকাল কিংবা দুপুরÑ যখনই আসি, ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে হাঁটার জায়গাও পাওয়া যায় না। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নিতে হয়। বসে যে খাবার খাব, সে জায়গাও থাকে না। এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য একটিমাত্র ক্যাফেটেরিয়া। আর ৬০টির মতো আসন। আমরা যারা দূর থেকে ক্যাম্পাসে আসি, তাদের খাবার নিয়ে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। ক্যাফেটেরিয়ায় আসন বাড়ানোর পাশাপাশি আরও নতুন একটি ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন করলে আমরা ভোগান্তি থেকে কিছুটা রেহাই পেতাম।’
মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার বলেন, ‘একদিকে তো বসার জায়গা নেই। এরপর যে খাবার এখানে দেওয়া হয়, তার মান একেবারেই নেই। খাবারের দামও বেশি রাখা হয়। আবার অল্প সময়ের মধ্যেই খাবার শেষ হয়ে যায়। খাবারের মান ভালো করে দাম কমানোর দাবি জানাই। এসব নিম্নমানের খাবার খেয়ে আমরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি।’
এসব বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মো. মাসুদ বলেন, ‘আমাদের এখানে যেমন বসার জায়গার সংকট, তেমনি প্লেটসহ অন্যান্য আসবাবের সংকট রয়েছে। সেজন্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কষ্ট করতে হয়। আমি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তারা বিষয়টি দেখবে বলে জানিয়েছে। আর সবকিছুরই দাম বেশি হওয়ায় খাবারের দাম কমানো সম্ভব না। এমনিতেও আমরা খুব বেশি লাভ করতে পারছি না। ক্যান্টিন চালাতেই কষ্ট করতে হচ্ছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারসহ আসবাব ভাঙা, সেগুলোর জন্য ক্যান্টিন পরিচালককে রিকুইজিশন দিতে বলেছি। রিকুইজিশন দিলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তুকি না থাকায় খাবারের দাম নিয়ে একটু সমস্যা। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যার সমাধান করতে।’