প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:২৬ পিএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:৫২ পিএম
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখার শিক্ষক আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে একই স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিনভর বিক্ষোভ করেছেন বসুন্ধরা শাখার শিক্ষকরা। তারা অবিলম্বে আবু সুফিয়ানকে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানান। আবু সুফিয়ান বসুন্ধরা শাখার (দিবা) ইংরেজি শিক্ষক।
এ ছাড়াও ওই ছাত্রীর বাবা প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি এবং ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের শিক্ষা ও আইসিটি শাখার সহকারী কমিশনার আল-আমিন হালদারকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে বসুন্ধরা শাখার শিক্ষকরা আবু সুফিয়ানের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করার পাশাপাশি তার সঙ্গে কাজ করবেন না জানিয়ে অধ্যক্ষের কাছে আবেদনপত্র দিয়েছেন।
২৩ আগস্ট যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীর বাবা ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও গভর্নিং বডির সভাপতি মো. সাবিরুল ইসলামকে লিখিত অভিযোগ দেন। ৩১ আগস্ট সহকারী কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) আল-আমিন হালদারকে অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার আল-আমিন হালদার তদন্তের শুনানিতে বসুন্ধরা শাখায় যান। ওই দিন ১০ জন শিক্ষক, ছাত্রীর বাবা-মা এবং দিবা শাখার ইনচার্জকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে ছাত্রীর বাবা বলেন, ’আমার মেয়ে ভিকারুননিসা স্কুলের বসুন্ধরা শাখার নবম শ্রেণির দিবা শাখার ছাত্রী। ওই শাখার ইংরেজি শিক্ষক আবু সুফিয়ানের কাছে সে প্রাইভেট পড়ত। প্রাইভেট পড়ানোর ফাঁকে শিক্ষক বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে অশালীন এসএমএস পাঠাত। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না। আমি এর প্রতিকার চাই।‘
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু সুফিয়ান দাবি করেছেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তিনি বলেন, ’আমাকে এই শাখা থেকে সরাতে শিক্ষকদের একটি গ্রুপ এসব ষড়যন্ত্র করছে।’
অভিযোগ ওঠার পর আবু সুফিয়ানকে বেইলি রোডের মূল শাখায় অধ্যক্ষের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কেকা রায় চৌধুরী বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আবু সুফিয়ানকে মূল শাখার অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন তিনি কোনো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’