× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

শাটল ট্রেনে ভোগান্তি শেষ হচ্ছে না

মো. মাসুদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:১৯ পিএম

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:২০ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

শাটল ট্রেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের কাছে আবেগ, ভালোবাসা আর হতাশার নাম। পৃথিবীতে একমাত্র শাটলের ক্যাম্পাস চবি। চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের এই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই ট্রেন। প্রায় ১২-১৫ হাজার শিক্ষার্থী শাটলে নিয়মিত যাতায়াত করেন।

বর্তমানে ২টি শাটল ট্রেন প্রতিদিন মোট ১৪ বার শহর-ক্যাম্পাস-শহর আসা যাওয়া করে। প্রতিটি শাটলে দশটি করে বগি আছে। ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতে যা খুবই অপ্রতুল। প্রতি বছর জ্যামিতিক হারে শিক্ষার্থী বাড়লেও বাড়েনি শাটলের শিডিউল। বরং লোকবলের সংকটে করোনা-পরবর্তী বন্ধ করে দেওয়া হয় নিয়মিত শিডিউলের ডেমু ট্রেন।

চবির ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাইমা আকতার সুমাইয়া বলেন, ‘শাটলের শিডিউল বাড়ানোর বদলে ডেমু শিডিউলগুলোও বন্ধ করে দেওয়ায় দুপুরের শিফটে ক্লাস থাকা শিক্ষার্থীদের আরও বাড়তি ভোগান্তি বেড়েছে। অপর্যাপ্ত শাটল শিডিউলের কারণে বাসে চলাচল করতে হচ্ছে। সেখানেও আছে বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তি।’

প্রতিদিন গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন শিক্ষার্থীরা। ফ্যান থাকলেও তা চলে না। অধিকাংশ বগির লাইটও নষ্ট। একে তো গরম তার ওপর গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করে প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু মোকাররম দস্তগীর বলেন, প্রায় সব বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা ৯টা ৫০ বা ১০টায় শুরু হওয়ায় ৮টা ২০ মিনিটের ট্রেনে করে সবাইকে ক্যাম্পাসে যেতে হয়। একে তো সবাইকে একসঙ্গে যেতে হয় তার ওপর বগি কম। উদাহরণস্বরূপ যেখানে ১০ জন যেতে পারবে সেখানে যেতে হচ্ছে ৪০ বা ৫০ জনকে। এতে অধিক গরম ও বেশি গাদাগাদির কারণে আমরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমরা ক্লাস করা ও পরীক্ষা দেওয়ার মতো মানসিকতাও হারিয়ে ফেলছি।

শাটলের ভোগান্তি নিয়ে চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শামীম খান বলেন, ‘শাটলে আমরা কী ধরনের ভোগান্তির শিকার হই, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। 

ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্সের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি ২০১৮ থেকে। আমি সব সময় দেখি যখন ট্রেন ভার্সিটির অভিমুখে যাওয়া শুরু করে ছোট ছোট বাচ্চারা ঢিল, পাথর নিক্ষেপ করে। এতে প্রায় কেউ আহত হন।‌ এমনকি আমি নিজে কয়েকবার হাতেনাতে ধরলেও তারা ক্ষমা চায় কিন্তু কাজটা আবার করে। সঙ্গে বহিরাগতদের আনাগোনা তো আছেই। প্রশাসন এইসব বিষয়ে নির্বিকার।

শিক্ষার্থীরা বগি আর শিডিউল বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে বহুদিন ধরে। ২০২২ সালের ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম রেলওয়ের সঙ্গে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়Ñ প্রতিটি ট্রেনে যুক্ত হবে নতুন একটি বগি। এ ছাড়া নিয়মিত শিডিউল ছাড়া অতিরিক্ত একটি শিডিউলে আরেকটি শাটল ট্রেন শহরে থেকে ক্যাম্পাসে ও ক্যাম্পাস থেকে শহরে আসা-যাওয়া করবে।

প্রতিটি শাটলে নতুন একটি করে বগি যুক্ত হয়েছে। তবে এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও আলোর মুখ দেখেনি অতিরিক্ত একটি শিডিউলের সিদ্ধান্ত।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে চবি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের ট্রেনগুলো ভাড়ায় চালিত হয়। আমরা অতি শিগগিরই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে বৈঠক করব। সেখানে ট্রেনের শিডিউল বাড়ানো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হবে। আগের সিদ্ধান্ত কেন বাস্তবায়ন হয়নি সে ব্যাপারেও কথা বলব।

এর মধ্যে ২০১৯ সালে ২৪ জুলাই চবিতে এসে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন নতুন ট্রেনের ঘোষণা দিলেও চার বছরেও সে ট্রেন এসে পৌঁছায়নি।

এই বিষয়ে চবি উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রেলমন্ত্রী ট্রেন দেবে বলেছেন কিন্তু কেন দিচ্ছেন না সেটা তো বলতে পারছি না। আমরা রেল মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.বি. এম ফজলে করিম চৌধুরীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। 

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, আমরা বিষয়টা জানি। শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি কিন্তু বাজেটের কারণে সম্ভব হয়ে উঠছে না। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউসিজির কাছে ট্রেন ও বাসের জন্য বাজেট চেয়ে দরখাস্ত দেব। 

হাটহাজারী উপজেলার জোবরা গ্রামে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১৯৮০ সালে শহর থেকে শাটল ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়। শিক্ষার্থীদের বহনে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত জোড়া ট্রেন চলাচল করে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা