বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৩ ২০:২৮ পিএম
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৩ ২২:১৮ পিএম
ইতিহাস কখনও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, লেখক, গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। তিনি বলেন, এরপরও আমরা বার বার ইতিহাসকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি।
রবিবার (২৭ আগস্ট) হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস স্মরণে ‘বঙ্গবন্ধু, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-২-এ উক্ত আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান।
সভা সঞ্চালনা করেন বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোছা. নুর-ই-নাজমুন নাহার।
মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে দুই লাখ মা-বোন ধর্ষিত হওয়ার যে তথ্য বলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। এ সংখ্যা পাঁচ লাখের উপরে। বীরাঙ্গনাদের নিয়ে আসলে কোনো গবেষণাই হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু নিয়ে মৌলিক কোনো গবেষণা নেই। পৃথিবীতে একমাত্র দেশ বাংলাদেশ, যেখানে স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষে শক্তি আছে। আর কোথাও এটি পাবেন না। স্বাধীনতার এতো বছর পর ৩০ শতাংশ লোক যদি পাকিস্তানের পক্ষে থাকে, তাহলে কী হল। আমরা কী রাজনীতি করলাম? আমরা পাকিস্থানি ভাবধারা থেকেও মুক্ত হতে পারছি না, ব্রিটিশদের থেকেও মুক্ত হতে পারছি না।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র ৫১ বছর বয়সে একটা রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে পারলেন অথচ আমরা কিছুই পারছি না। এর একটাই কারণ তিনি যা ভেবেছেন তাই করেছেন। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একটি অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে।
মুনতাসীর মামুন বলেন, দেশের সংবিধান তৈরির সময় জাতির পিতা ড. কামাল হোসেনকে দুটি বিষয়ে বার বার বলেছেন, তা হল ধর্মনিরপেক্ষতা যুক্ত করা ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবনবোধ, রাজনৈতিক দর্শন সর্বোপরি তার রাষ্ট্রদর্শন নিয়ে গবেষণাধর্মী ও তথ্যবহুল আলোচনা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের স্বাধীনতার অন্যতম মূলমন্ত্রই ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। বঙ্গবন্ধু নানা মত, নানা পথের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। এরপর যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সোনার বাংলাদেশে পরিণত করতে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। এক্ষেত্রেও তিনি ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি টিএসসিতে ভার্চুয়ালি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।