ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘কালো দিবস’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৩ ১৮:২২ পিএম
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৩ ১৯:১৮ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালো দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ছবি: ফোকাস বাংলা
সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা আরও বেগবান
করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক
ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, অসাংবিধানিক শক্তির উত্থান
ঘটলে দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তাই সকল অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক
চক্রান্তের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ সবসময় সোচ্চার
থাকতে হবে।
বুধবার (২৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কালো দিবস উপলক্ষে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায়
সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সকল শহীদের
প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাযজ্ঞের ঘটনা, ২০০৪ সালের ২১
আগস্টে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলার ন্যক্কারজনক ঘটনা
এবং ২০০৭ সালের ২০-২৩ আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা।
স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী অপশক্তি এসব বেদনার্ত, নির্মম ও নিন্দনীয় ঘটনা ঘটিয়েছিল।
এরা গণতন্ত্রের শত্রু, সংবিধানের শত্রু।’
তিনি বলেন, ‘২০০৪-২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক
হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত শাসন
ও ২০-২৩ আগস্টের ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনের পটভূমি তৈরি করি। সেসময় এক কঠিন পরিস্থিতিতে
নানা ঝুঁকি নিয়ে আমাদের অগ্রসর হতে হয়েছিল। সংবিধান পরিপন্থী সকল অশুভ শক্তির উত্থান
প্রতিহত করতে ভবিষ্যতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা
সাহসী ভূমিকা পালন করবেন।’
২০০৭ সালের ২৩ আগস্টের ঘটনাকে
জাতির জীবনে এক কালো অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তৎকালীন সেনা সমর্থিত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক ভাবধারায় বাংলাদেশকে পরিচালিত করার
হীন চেষ্টা চালিয়েছিল। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে
সারা দেশের মানুষ এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস
ও ঐতিহ্য ধারণ করে দেশের উন্নয়নের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায়
সর্বদা সোচ্চার থাকার জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সকলের প্রতি উপাচার্য আহ্বান জানান।’
রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকারের
সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড.
মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ
অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, ২০০৭ সালের ২৩ আগস্টের ঘটনায় কারা নির্যাতিত শিক্ষক অধ্যাপক
ড. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল
হক ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের
সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতসহ অফিসার্স এসোসিয়েশন, কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী
সমিতি ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।