প্রাইম ইউনিভার্সিটি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৩ ০৯:০৪ এএম
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৩ ১২:৩০ পিএম
নিয়ম অমান্য করে প্রাইম ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ৪৯তম ব্যাচে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করায় ওই বিভাগের পাস করা শিক্ষার্থীদের ইন্টিমেশন আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই লোভে শিক্ষার্থীদের ইন্টিমেশন ৯ মাসেও জমা হয়নি। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তাদের বানানো হচ্ছে ‘বলির পাঁঠা’।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিয়মমতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রতি সেমিস্টারে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করার কথা। অথচ প্রাইম ইউনিভার্সিটি ২০১৮ সালে তাদের ৪৯তম ব্যাচে ভর্তি করে ৫৯ জনকে। ২০২২ সালে এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ জন এলএলবি পাস করেন। এরপর তারা বার কাউন্সিল সনদের জন্য ইন্টিমেশন জমা দিলে তা গ্রহণ করেনি বার কাউন্সিল। বার কাউন্সিল বলছে, নিয়মের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার জন্য তাদের ইন্টিমেশন আটকে রাখা হয়েছে। শেষমেশ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অবরুদ্ধ করলেও কোনো সমাধান দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমতাবস্থায় দুদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি ৪৯তম ব্যাচে ভর্তি হন তারা। ওই বছরের ১ অক্টোবর শুরু হয় তাদের ক্লাস। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করার কথা থাকলেও ওই ব্যাচে ভর্তি করা হয় ৫৯ জন শিক্ষার্থীকে। এ নিয়ে তখন শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুললেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এতে কোনো সমস্যা হবে না।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ২০২২ সালের অক্টোবরে এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ জন এলএলবি পাস করেন। এরপর তারা নভেম্বরে সনদের জন্য বার কাউন্সিলে ইন্টিমেশন দেন। কিন্তু ৯ মাস অতিবাহিত হলেও বার কাউন্সিল ইন্টিমেশন জমা নেয়নি।
পরে বার কাউন্সিলের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করলে বার কাউন্সিল জানায়, নিয়মের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করার কারণে তাদের ইন্টিমেশন জমা নেওয়া সম্ভব নয়। এরপর দফায় দফায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তার কোনো সুরাহা করে দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শেষমেশ গত রবিবার ও সোমবার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন। গতকাল শোক দিবসের কারণে তাদের আন্দোলন স্থগিত ছিল। আজ বুধবার ফের তালা দিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এদিন এবং আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বেশি টাকার লোভে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। তাদের এই লোভের খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাকিব জানান, ইন্টিমেশন জমা দেওয়ার এক-দেড় মাসের মধ্যে তা অনুমোদন হওয়ার কথা থাকলেও বিগত ৯ মাস থেকে তা অনুমোদন হচ্ছে না। আবেদনের দুই মাস পরও আবেদন অনুমোদন না হওয়ায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা বিষয়টি তাদের সমস্যা নয়, বার কাউন্সিলের সমস্যা বলে জানায়। এরপর আমরা বার কাউন্সিলে গিয়ে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তারা জানান, আমাদের ব্যাচে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করায় ইন্টিমেশন আটকে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বার কাউন্সিলের সনদ ব্যতীত আইনের অনার্সের সনদের কোনো মূল্য নেই। এখন আমাদের কী হবে বুঝতে পারছি না।
এ প্রসঙ্গে প্রাইম ইউনিভার্সিটির রেজিস্টার ক্যাপ্টেন (অব.) এমএ জব্বার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আজ বার কাউন্সিলের সঙ্গে আমাদের বৈঠক রয়েছে। বৈঠকে বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।
তবে তিনি এও দাবি করেন, ওই ব্যাচে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় দুদিন বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কী কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানে। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কোনো সম্পর্ক নেই।
বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, আইনমতো প্রতি ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করার কথা। এর বেশি হলে ইন্টিমেশন আটকে দেওয়া হয়।