জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৩ ১৭:০২ পিএম
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৩ ১৭:১৫ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে সোমবার কাফনের কাপড় পরে অনশন করেন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা। প্রবা ফটো
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা। সোমবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন কর্মসূচি পালন করেন তারা। এর আগে ১৭ জুলাই চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন কর্মচারীরা। এরপর রবিবার (৩০ জুলাই) থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনের মেঝেতে কাঁথা-বালিশ নিয়ে অনশনে বসেছেন অর্ধশতাধিক কর্মচারী। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী শেখ হাসিনা হলের শরিফুল ইসলাম ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের মো. রায়হান কাফনের কাপড় পরে শুয়ে আছেন।
শেখ হাসিনা হলের মালি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হয় চাকরি, নয়তো মৃত্যু। এভাবে অমানবিক জীবনযাপন করতে পারছি না। চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কেউ এখান থেকে যাবো না।’
অনশনে কর্মচারীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪২ জন অস্থায়ী কর্মচারী আছেন। যাদের দৈনিক ৪০০ টাকা করে মজুরি দেওয়া হয়। তাদের কোনো ছুটিও নেই। একদিন ছুটিতে গেলে ওই দিনের টাকা পান না। তাই চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ২০২০ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছে কর্মচারীরা। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন তারা। তখন প্রশাসনের মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে অনশন স্থগিত করেন। তবে আশ্বাসের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আবারও অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আবু হাসান বলেন, ‘চাকরি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত ইউজিসি থেকে নেওয়া হয়। ২৭ জুলাই ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি পদের অনুমোদন দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ইউজিসির চেয়ারম্যান। তবে তিনি অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।’