বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৩ ১২:৪১ পিএম
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৩ ১২:৪৩ পিএম
রাজধানীতে মহামারির দিকে এগোচ্ছে ডেঙ্গু জ্বর। হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকার বাইরেও। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিদিনই আবাসিক হলের কেউ না কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহে অর্ধশতের বেশি শিক্ষার্থী এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৮ জন, নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলের ২৮, শেরেবাংলা হলের ১৩, শেখ লুৎফর রহমান হলের তিন এবং মেয়েদের তিনটি হলের ছয়জন শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন কর্মচারী-কর্মকর্তা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। সিরাজউদ্দৌলা হলের বেশির আক্রান্ত শিক্ষার্থী সপ্তম থেকে দশম তলায় থাকেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মশা জন্ম নিতে পারে হলগুলোর এমন স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করছেন না কর্মচারীরা। হলের ভেতরের করিডর, পানি নিষ্কাশনের ড্রেন, গোসলখানা ও টয়লেটের পাশে জমে থাকা পানিতে মশার বিস্তার ঘটছে। নিয়মিত ওষুধ না ছিটানোয় মশার উপদ্রব বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ভবনগুলোর পানি নিষ্কাশন ড্রেনে পানি জমে রয়েছে। এর মধ্যে নবাব সিরাজউদ্দৌলা হল, কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও শেরেবাংলা হলের টয়লেট ও গোসলখানায় জমে থাকা পানিতে মশার প্রজনন-উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো বিজনেস ফ্যাকাল্টির পেছনে, পরিবহন পুলের ভেতরে, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে, কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে, সিরাজউদ্দৌলা হলের উত্তর-পূর্ব দিকে, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পশ্চিম পাশে ঝোঁপঝাড় তৈরি হয়েছে। এর ফলে স্থানগুলো মশার হটস্পটে পরিণত হয়েছে।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের এ ব্লকের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মামুন বলেন, সপ্তাহে এক দিন টয়লেট-গোসলখানা পরিষ্কার করা হয়। এর আশপাশে পানি জমে থাকে। সেখানে মশার প্রজনন হয়। হল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই জমে থাকা পানি পরিষ্কার করি।
সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া একই হলের শিক্ষার্থী সজীব হোসেন বলেন, গত এক মাসে মাত্র দুইবার হলের আশপাশে ধোঁয়া দেয়া হয়েছে। কিন্তু হলের ভেতরে করিডর, গোসলখানা-টয়লেটে কোনো ওষুধ ছিটানো হয়নি। ফলে হলগুলোতে মহামারির মতো ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এরই মধ্যে আমরা বিষয়টি অবগত হয়েছি। মশানিধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বৈঠকে সব হলের প্রভোস্টদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি প্রশাসনের নিজ উদ্যোগে হলগুলোতে মশা নিরোধক ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।