বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৩ ১৫:৫৩ পিএম
আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৩ ১৬:১৭ পিএম
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জবি কর্মচারীদের মানববন্ধন। প্রবা ফটো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মচারীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক কর্মচারী অংশ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরের সামনের সড়কে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুই ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন তারা।
শরিফুল ইসলাম নামে এক কর্মচারী বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের কোনো মূল্যায়ন নেই। দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মচারী মানেই আপনি কলুর বলদ। ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে আমাদের চাকরি স্থায়ী হবে- এমনটাই জানিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। অথচ চাকরিতে যোগদানের পর বুঝতে পারলাম কোন চোরাবালিতে পড়ে আছি আমরা।’
তিনি বলেন, ‘এখানে আপনাকে দিয়ে সব কাজ করানো হবে। এমন কী স্যারদের ব্যক্তিগত কাজও। যদি আপনি তা না করেন তাহলে আপনার কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে না। স্থায়ী চাকরিজীবীদের এ ধরনের হুকুম করা হয় না, যারা অস্থায়ী তাদের দিয়েই এ কাজ করানো হয়।’
বেলাল নামের আরেক কর্মচারী বলেন, ‘১৫ থেকে ২০ দিনের হাজিরা আমরা এখানে পাই। ৯ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী বাজারে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন। এখানে স্থায়ীদের বছরে ২০ দিন ছুটি থাকলেও আমাদের সেক্ষেত্রে কোনো ছুটি নাই। অসুস্থতার জন্য আমরা না পারলে আমাদের হাজিরা থেকে বেতন কাটা যায়। কিছুদিন আগে আমাদের এক সহকর্মী অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন অফিসে আসতে পারেনি। তার বেতন কাটা হয়েছে। অসুস্থতার কথা বলে কান্না করে অনুরোধ করেছে কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।’
মানববন্ধনে মাহবুব নামের আরেক কর্মচারী বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় দিয়েছি। আমাদের আশা ছিল, জবি একদিন আমাদের কিছু দেবে। আমরা অন্য কোথাও চাকরির জন্য ও চেষ্টা করিনি। কারণ আমাদের আশা দেওয়া হয়েছে। কিছু দিনের ভেতর চাকরি স্থায়ী করা হবে। কিন্তু কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ওহিদুজ্জান ছুটিতে থাকায় এবিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমার কাছে এখনও কোনো স্মারকলিপি আসেনি। এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে পারছিনা।’