বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৩ ১৬:০৫ পিএম
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৩ ১৬:২৮ পিএম
হাবিপ্রবি হলে একটি সাপকে মেরে ফেলে রাখা হয়েছে। প্রবা ফটো
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) আবাসিক এলাকাসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায়ই বিষাক্ত সাপ বের হয়ে আসে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাপের উপদ্রব রোধে পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ২ জুন ঠাকুরগাঁওয়ে হাবিপ্রবির এক শিক্ষার্থী কোবরা সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, এমন ঘটনা ক্যাম্পাসে যেন না ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সাপের উপদ্রব রোধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তানবীর ইসলাম বলেন, ‘গত ১৩ জুলাই সকালে দাঁত মাজার সময় হলের নিচতলায় বাথরুমের বেসিনের কাঁচের পেছনে বিষধর সাপ দেখতে পাই। কিছুদিন আগেও একই হলের চার তলায় রুমের ভেতর সাপ পাওয়া যায়। এতে আমরা সকলেই আতঙ্কিত। হল সংলগ্ন এলাকাসহ পুরো ক্যাম্পাসেই ঝোপঝাড়ের পরিমাণ বেড়েছে। সেই সঙ্গে সাপ ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে। সাপের বিষয়ে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।’
জিয়া হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী শামিম চৌধুরী জানান, একটি সাপ জানালা দিয়ে হলের চার তলায় তার রুমে প্রবেশ করে। সাপটি বিষধর কি-না বুঝতে না পারায়, দেখা মাত্রই সাপটিকে মেরে ফেলা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে বিষাক্ত সাপের বিষ নিধনের জন্য কোনো অ্যান্টিভেনম নেই।
মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মো. কোরবান আলী বলেন, ‘সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অ্যান্টিভেনম রাখা হয় না। এসব শুধু সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে রাখা হয়। কারণ অন্যান্য ওষুধের চেয়ে অ্যান্টিভেনমের দাম বেশি। অ্যান্টিভেনমকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হয়। বাংলাদেশে সাপের অ্যান্টিভেনম তৈরি না হওয়ায় ভারত থেকে আমদানি করতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিষ উৎপাদন করার জন্য সাপের খামার স্থাপন করা হয়েছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প। বাণিজ্যিকভাবে বিষ উৎপাদন করতে হলে পাঁচ থেকে সাত বছর লাগবে। তাই প্রয়োজন সচেতনতা ও আশেপাশের ঝোপঝাড় পরিস্কার করা।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজ চলছে। আমরা কাজটিকে জরুরি ভিত্তিতে করার যায় কি-না সেই চেষ্টা করব।