বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৩ ১৬:৩৩ পিএম
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৩ ১৬:৫২ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগে বুধবার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম ইকবাল মাহমুদ রানা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগকারী সাংবাদিকের নাম অমৃত রয়। দৈনিক আমার বার্তা ও এশিয়ান টিভির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা ক্যান্টিনে সিরিয়াল টোকেন ছাড়াই খাবার নিতে গিয়ে সিরিয়ালে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের টোকেন ফেলে দেন। তখন ওই শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ সময় ক্যাফেটেরিয়ায় হুলস্থুল দেখে সাংবাদিক অমৃত রায় সেখানে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগকর্মী ও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী সাজেদুল ইসলাম সৈকত এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ রানা তাকে হুমকি-ধমকি দেন।
পরে অমৃত ক্যাফেটেরিয়ার একটি টেবিলে খেতে বসলে অভিযুক্ত ইকবাল মাহমুদ রানা ও তার সহযোগীরা দলবল নিয়ে অমৃতের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে লাথি মারা শুরু করেন অভিযুক্ত ইকবাল মাহমুদ রানা। এতে তিনি আহত হন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আকতার হোসাইন ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীদের থামান এবং বিচারের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি আপাতত স্থগিত করতে বলেন।
এ ঘটনা জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিবরণ শুনে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।
অভিযোগকারী সাংবাদিক অমৃত রায় বলেন, ‘ক্যাফেটেরিয়ায় খাওয়ার সময় লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে দেখে আমি এগিয়ে গিয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছে এর কারণ জানতে চাই। এতে তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি-ধমকি দেন। পরে আমি খাবার খেতে বসলে ইকবাল মাহমুদ রানা ও তার সহযোগীরা এসে আমার ওপর আক্রমণ করে। একপর্যায়ে আমাকে লাথি দেয়।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল মাহমুদ রানার নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় শাস্তির দাবি জানিয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহীম ফরাজী বলেন, ‘সাংবাদিকের গায়ে হাত দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে একাডেমিক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আকতার হোসাইন বলেন, ‘আমি ভুক্তভোগী সাংবাদিককে ডেকে কথা বলেছি। ঘটনার মীমাংসা হয়ে গেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে ডেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’