বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৩ ১৬:৩৯ পিএম
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৩ ১৭:৪১ পিএম
আন্দোলনে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
সমন্বিত বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি ডিগ্রি চালুর দাবিতে ৪৪ দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। ফলে গত ৫ জুন থেকে বন্ধ আছে অনুষদের সকল শিক্ষা কার্যক্রম। পাশাপাশি সমন্বিত ডিগ্রি চালু না করার দাবিতে গত ৭ জুন থেকে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরাও।
দাবি আদায়ে দুই অনুষদের শিক্ষার্থীরাই অনড়। এদিকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখায় শিক্ষার্থীরা দেড় মাস পিছিয়ে পড়েছে। তবে এখনো সমাধানের পথে যেতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (১৯ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৩০ মে প্রকাশিত সরকারি চাকরি সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনকে ঘিরে শুরু হয় এই আন্দোলন। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নন ক্যাডার কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালার কয়েকটি পদে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিগ্রিকে অন্তর্ভুক্ত না করে সমন্বিত ডিগ্রিকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ফলে ওই পদগুলোর বিপরীতে আবেদন করতে পারবেন না ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
ভেটেরিনারি অনুষদ ছাত্র সমিতির সহ-সভাপতি মো. শাহরিয়ার খন্দকার বলেন, ‘আমাদের দাবি যৌক্তিক। সমন্বিত ডিগ্রি চালু না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরতে নারাজ। শিক্ষকেরা চাচ্ছেন যে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করি। আমরা দাবি আদায় করে তবেই ক্লাসে ফিরব।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভেটেরিনারি অনুষদের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস পরীক্ষা বাদ দিয়ে আন্দোলনের ফলে একাডেমিক দিক দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছি। এতে একদিকে যেমন সেশনজটের শঙ্কা অন্য দিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিগ্রি না পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন আন্দোলনে এসে আমাদের হাজিরা দেওয়া লাগে। ফলে ইচ্ছা না থাকলেও আন্দোলনে আসতে হয়। আমরা দ্রুত আমাদের দাবি পূরণ করে ক্লাসে ফিরতে চাই।’
একই প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে সমন্বিত ডিগ্রি চালু না করার দাবিতে ৭ জুন থেকে দুই সপ্তাহ ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখেছিল পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে ক্লাস-পরীক্ষা চলমান রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছন তারা।
এ বিষয়ে পশুপালন অনুষদ ছাত্র সমিতির সহ-সভাপতি রেজউয়ান উল আমিন বলেন, ‘আন্দোলনের প্রথম দুই সপ্তাহ আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখেছিলাম। পরবর্তীতে করোনাকালীন ক্ষতি মাথায় রেখে সকল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করি। তবে আমাদের আন্দোলন বন্ধ হয়নি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে আসুক। মূলত চাকরি নিয়ে শঙ্কিত থাকার কারণেই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের আন্দোলনের বিষয়টির সমাধান পুরোটাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের হাতে। শিক্ষকদের হাতে কিছুই নাই। আন্দোলনের মাধ্যমে তারা মন্ত্রণালয় ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক বিভাগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির কোনো সমাধান আমার কাছে নাই। আমি শিক্ষার্থীদের কাছে সময় চেয়েছি। শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভাব করার চেষ্টা করব।’
ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখায় শিক্ষার্থীদের সেশনজটে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলন যত আগাবে সেশনজট তত বাড়বে। ইতোমধ্যে তারা দেড়মাসের মতো পিছিয়ে গিয়েছে। সেশনজটের ব্যাপারে অনুষদের ডিনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।