বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৩ ১৮:৫৮ পিএম
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) একটি হলের গণরুমে র্যাগিংয়ের ঘটনার বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ তুলে নিয়েছেন শিক্ষার্থী ইয়াস রোহান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর দেওয়া উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের এ শিক্ষার্থী বুধবার (২১ জুন) অভিযোগ তুলে নেন। এর আগে গত রবিবার রাতে লালন শাহ হলের ১৩৬ নম্বর কক্ষেরর্যাগিংয়ের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে গত মঙ্গলবার অভিযোগ দেন ওই শিক্ষার্থী । তিনি হলের ৩৩০ নম্বর কক্ষে থাকেন।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, ‘সকালে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ তুলে নিয়েছে।’ অভিযোগ তুলে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াস রোহান বলেন, ‘গত ২০ জুন আমি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলাম। বিষয়টি যথাযথভাবে মীমাংসা হওয়ায় কোনপ্রকার চাপ ছাড়াই অভিযোগ তুলে নিয়েছি।'
অভিযোগে ওই শিক্ষার্থী বলেছিলেন, ‘রাত ২টার দিকে ১৩৬ নম্বর কক্ষে ডাকা হয়। সেখানে চারুকলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফিফ হাসান, তন্ময় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আমার ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করে। আমি যৌন হয়রানির শিকার হই। পরে বাইরে চলে আসি। পরবর্তীতে হলে ঢোকার সময় আবারও মারধর করা হয়। মারতে মারতে জিয়া মোড়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আমার জামা ছিঁড়ে যায় ও চশমা ভেঙে যায়। পরে বিচার করার জন্য ছাত্রলীগের রুমে (শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের কক্ষ) নিয়ে আবার মারধর করে।’
হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইয়াস রোহান ও অভিযুক্তরা গণরুমে থাকেন। রোহান ৩৩০ নম্বর কক্ষে ও অভিযুক্তরা ১৩৬ নম্বর কক্ষে থাকেন। হলের ছাদে পরিচয় পর্বের পর রোহানকে রুমে ডাকেন অভিযুক্তরা। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় দুই পক্ষকে তার কক্ষে ডেকে বিষয়টি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে নবীন ছাত্রী ফুলপরীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের এক নেত্রীসহ পাঁচ ছাত্রীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি সে সময় সারা দেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়। পরে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হয়। নির্যাতনের দায়ে পাঁচ ছাত্রীকে বহিষ্কার করে ইবি প্রশাসন।