বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৩ ২২:২৮ পিএম
আপডেট : ২১ জুন ২০২৩ ০০:৩৬ এএম
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রী ফুলপরীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে এক ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির আবাসিক হলের গণরুমে এবার বিবস্ত্র করে এক নবীন শিক্ষার্থীকে র্যাগিং ও যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী গত রবিবার (১৮ জুন) র্যাগিং ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন জানিয়ে আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনা করেন। দিনি লালন শাহ হলের ৩৩০ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তবে ঘটনার পর সকালে হল ছেড়ে মেসে অবস্থান করছেন তিনি।
ওই ছাত্রের অভিযোগ, ১৩৬ নম্বর কক্ষে এ র্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগে ওই ছাত্র বলেন, ‘রাত ২টার দিকে আমাকে ১৩৬ নম্বর কক্ষে ডাকা হয়। সেখানে চারুকলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফিফ হাসান, তন্ময় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আমার ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করে। আমি যৌন হয়রানির শিকার হই। পরে বাইরে চলে আসি। এমনকি পরে হলে ঢোকার সময় আমাকে আবারও মারধর করা হয়, মারতে মারতে জিয়া মোড়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আমার জামা ছিঁড়ে যায় ও চশমা ভেঙে যায়। তারপর বিচার করার জন্য ছাত্রলীগের রুমে (শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের কক্ষ) নিয়ে গিয়ে সেখানে আবার মারধর করে।’
হলের আবাসিক ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা দুইজনই গণরুমে থাকেন। ভুক্তভোগী ৩৩০ নম্বর কক্ষে ও অভিযুক্তরা ১৩৬ নম্বর কক্ষে থাকেন। হলের ছাদে পরিচয় পর্বের পর ভুক্তভোগীকে রুমে ডাকেন অভিযুক্তরা। সেখানে তার ওপর বিভিন্নভাবে র্যাগিং করা হয়। র্যাগিংয়ের একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করতে বাধ্য করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগী।
বিষয়টি মীমাংসার জন্য শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় দুই পক্ষকে তার কক্ষে ডাকেন। সেখানে জয় মীমাংসার চেষ্টা করেন।
অভিযুক্ত আফিফ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিছুটা মনোমালিন্য হয়েছিল। পরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় ভাই বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন।’
আরেক অভিযুক্ত তন্ময় বিশ্বাসও একই বয়ান দেন।
ইবির ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরীন বলেন, ‘অফিসের শেষ সময়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আজ কিছু করতে পারিনি। তবে যে বিষয়টি উল্লেখ করেছে সেটি কোনোভাবেই শোভনীয় নয়। আবেদনটি গুরুত্বসহকারে আমলে নেওয়া হয়েছে।’
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমার অফিসের কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন শেষ সময়ে একটি অভিযোগ এসেছে। আমি এখনো দেখিনি সে কী লিখেছে। কাল অফিসে গিয়ে বিষয়টি দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’
শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, ‘গণরুমের দুই পক্ষের সমস্যা হলে আমার কাছে আসেন। আমি তাদের মীমাংসা করে দিয়েছি। মারধরের ঘটনা জানি না। তবে আমি যতটুকু শুনেছি, ওই ছেলে বিকেলে অভিযোগ তুলে নিয়েছে।’
অভিযোগ তুলে নেওয়ার বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগী ছাত্রকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে রাত পৌনে ৮টায় ছাত্র উপদেষ্টা নিশ্চিত করেন, কেউ অভিযোগ তুলে নেওয়ার বিষয়টি তাকে জানাননি।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে নবীন ছাত্রী ফুলপরীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগের এক নেত্রীসহ পাঁচ ছাত্রীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি সে সময় সারা দেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়। পরে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হয়। নির্যাতনের দায়ে পাঁচ ছাত্রীকে বহিষ্কার করে ইবি প্রশাসন।