বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৩ ২২:১৬ পিএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৩ ২২:২৪ পিএম
বাকৃবির কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে বায়োগ্যাস উৎপাদন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। ছবি : প্রবা
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ৯৩% প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এতে যেমন গ্যাসের অপ্রতুলতা বৃদ্ধি পায় তেমনি পরিবেশের ক্ষতি হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে বায়োগ্যাস। বায়োগ্যাস ব্যবহারে একদিকে বিদ্যুতের ঘাটতি কমাবে অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাস কম ব্যবহৃত হবে। ভবিষ্যতে জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগ এবং রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল ‘বাংলাদেশে জৈব অবশিষ্টাংশের অবাত সহ-পাচন থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। সোমবার (১২ জুন) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল (বিইপিআরসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ।
ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, রান্না করার সময় যেসব বর্জ্যে হাইড্রোজেন সাবস্টেন্স থাকে সেগুলো দিয়ে এনার্জি উৎপাদন করা সম্ভব। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের জন্য বিষয়টি জরুরি।
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাকৃবির রুটিন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আউয়াল। এ ছাড়া বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের ডিরেক্টর ড. হাসান মাহমুদ, বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান ও একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল আলম, অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফলিত রসায়ন বিভাগ এবং রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইলসহ অন্যান্য অনুষদের শিক্ষক ও ওই অনুষদের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. চয়ন বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিশুদ্ধ এবং টেকসই শক্তিতে রূপান্তর বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিকূলতাগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং আর্থিক উন্নয়নে শক্তির একটি বড় প্রভাবক। আমাদের প্রায় ৫১ দশমিক ০৫ শতাংশ বিদ্যুৎ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এজন্য প্রয়োজন বিশুদ্ধ এবং টেকসই শক্তি, যার অন্যতম উৎস হলো জৈব অবশিষ্টাংশের অবাত সহ-পাচন। প্রাণী, মাঠ শস্য এবং শস্য প্রক্রিয়াকরণ থেকে যথাক্রমে প্রায় ১৭ দশমিক ৬৩, ৩৭ দশমিক ৯৯ এবং ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ জৈব অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়, যা থেকে উৎপন্ন বায়োগ্যাস হতে পারে নবায়নযোগ্য ও বিশুদ্ধ শক্তির উৎস।