বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৩ ১৬:৪১ পিএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৩ ১৭:০৭ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মাস্টারপ্ল্যান না করে অপরিকল্পিতভাবে গাছ কেটে ভবন নির্মাণচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৩১ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচুঁ বটতলা এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, উন্নয়নের নামে ভূমিগ্রাস, বৃক্ষনিধন ও পরিবেশ-প্রতিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট, বনভূমি উজাড় করে আইবিএ ভবন এবং গণমানুষের অর্থ অপচয় করে অপ্রয়োজনীয় তৃতীয় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রশাসনিক ভবন, শহীদ মিনার চত্বর, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও মুক্তমঞ্চ প্রদক্ষিণ করে বিজ্ঞান কারখানার পাশে আইবিএ- জেইউ ভবন ও অন্য দুটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে এসে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘সুন্দরবন’ নামক উক্ত নির্মাণ স্থানের প্রবেশপথে ‘গাছ কাটা নিষেধ’ লিখিত একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেয়।
সমাবেশে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নূর-এ-তামিম স্রোতের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক মৌটুসী জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাস্টারপ্ল্যান থাকতেই হবে। এর আগেও আমরা ছেলেদের তিনটা হল ও মেয়েদের তিনটা হল নির্মাণের সময় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা দেখেছি। বিকল্প জায়গা থাকতেও আইবিএ ভবন নির্মাণের জন্য যে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে প্রায় ২৫০ শালগাছ রয়েছে, অনেক প্রাণী রয়েছে। এই বনভূমি ধ্বংসে প্রশাসনের যে পাঁয়তারা সেটা আমরা বাস্তবায়ন হতে দেব না। বিকল্প জায়গায় আইবিএ ভবন হতে পারে।’
চলচ্চিত্র আন্দোলনের কর্মী এরফানুল ইসলাম ইফতু বলেন, ‘এই নিপীড়ক প্রশাসনের বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়াচ্ছি বিবেকের তাড়না থেকে। আমাদের একাডেমিক বিল্ডিং ক্লাসরুমের বিল্ডিংয়ের অভাব রয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই; কিন্তু মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ছাড়াই যত্রতত্র বিল্ডিং করলে এর ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দাবি হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করতে হবে এবং মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ছাড়া কোনো গাছ কাটা যাবে না।’
সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া অগণিত গাছ কাটার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এখানে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে গাছপালা ধ্বংস করে অবকাঠামো নির্মাণের মহোৎসব চলছে। এত দিন আমাদের বায়বীয় আলাপ দেওয়া হয়েছে মাস্টারপ্ল্যান আছে, এখন প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান নেই। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করতে হবে, সকল একাডেমিক ভবন ক্লাসরুমের সংকট নিরসন করতে হবে। হাজার হাজার কিলোমিটার উড়ে এই ক্যাম্পাসে পাখি আসে, কারণ এই ক্যাম্পাস সবুজ, এই সবুজ ক্যাম্পাস আমরা ধ্বংস করতে দেব না।’
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সৌমিক বাগচী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন আইবিএ ভবনের জন্য আগেও গাছ কাটা হয়েছে; কিন্তু আইবিএ বিল্ডিং হয় নাই গাছ কারও পকেটে চলে গেছে। আজকে এখান থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, আমরা জাহাঙ্গীরনগরে মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া আর কোনো বিল্ডিং করতে দেব না। আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাব, আমাদের এই আন্দোলন টেকসই ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্যই।’
গত ২৩ মে আইবিএ-জেইউ-এর নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম। তবে প্রস্তাবিত জায়গাটিতে পাঁচ শতাধিক গাছ রয়েছে বলে অনুমান শিক্ষার্থীদের। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন উপাচার্য ফারজানা ইসলামের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিষদের এক সভায় রসায়ন ভবন ও সপ্তম ছায়ামঞ্চের দক্ষিণ পাশে আইবিএ- জেইউ ভবন ও অন্য দুটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য স্থান বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়। যেখানে আইবিএ- জেইউ ভবনের জন্য ৮ বিঘা জমি এবং অন্য দুটি একাডেমিক ভবনের জন্য ৬ বিঘা করে জমি বরাদ্দ করা হয়।