রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৩ ২১:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৩ ২২:০২ পিএম
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট। সংগৃহীত ছবি
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ শিক্ষক কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে কাফনের কাপড় পাঠানোর ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) বিষয়টি তদন্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়টির চার কর্মকর্তাকে তলব করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৯ মে) এই চার কর্মকর্তার নমুনা স্বাক্ষর/লেখা সংগ্রহ করার লক্ষ্যে আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, সূত্রে বর্ণিত জিডি তদন্তকারী কর্মকর্তা জিডি তদন্ত, সত্যতা যাচাই করার প্রয়োজনে বিতর্কিত ব্যক্তি রুয়েটের পরিষদ শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার শাহ মো. আল বেরুনী ফারুক, নির্বাহী প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব ও সিনিয়র সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন ইতির স্বাক্ষর/লেখা সংগ্রহ করা এবং হ্যান্ড রাইটিং পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞ আদালতে হাজির করার জন্য আবেদন করেছেন। জিডিসংক্রান্ত সঠিক তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিলী আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ৯ মে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
গত বছরের ৬ ডিসেম্বর রুয়েট শিক্ষক সমিতি ও শুদ্ধাচার কমিটির সদস্যরা কয়েকজন কর্মকর্তাকে নির্ধারিত সময়ে অফিসে হাজির না হওয়া ও প্রায়ই অফিসে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। এদের মধ্যে রুয়েটের পরিষদ শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার শাহ মো. আল বেরুনী ফারুকও ছিলেন। ওই দিন দুপুরে তিনি শুদ্ধাচার কমিটি ও শিক্ষক সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং তাদের দেখে নেবেন বলে হুমকি দেন। এরপর ২১ ডিসেম্বর রুয়েটের ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার নামে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে চিঠি আসে। চিঠিতে প্রেরকের ঠিকানায় ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ উল্লেখ ছিল। চিঠি খুললে এর ভেতরে সাদা কাফনের দুটি করে টুকরো পায় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-কর্মকর্তারা।
হুমকি পাওয়া একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তার সন্দেহ, এভাবে চিঠিতে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে শাহ মো. আল বেরুনী ফারুক, মোতাহার হোসেনসহ তাদের সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে।
তবে আল বেরুনী ফারুক এমন অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন।
হুমকিপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মকর্তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সেখ; গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন; রুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল আওয়াল; পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক, রুয়েট শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. মিয়া মো. জগলুল সাদত; ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন; কম্পট্রোলার নাজিম উদ্দীন আহম্মদ, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক মামুনুর রশীদ, সহকারী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ ও সেকশন অফিসার প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম রোজ।
চিঠিতে সাদা কাপড়ের টুকরো পাওয়ার ঘটনায় ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন মতিহার থানায় একটি জিডি (জিডি নং-১১৬০) করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, এভাবে শিক্ষক-কর্মকর্তার নামে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে খামের মধ্যে কাফনের কাপড় আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ভয়ভীতির সঞ্চার হয় এবং সকলে প্রাণনাশের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ঘটনার সঙ্গে গত ৬ ডিসেম্বর জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিদর্শন কমিটির সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে। এজন্য জিডিতে সঠিক তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
এই জিডির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্ত ও যাচাই-বছাই করার প্রয়োজনে বিজ্ঞ আদালতে একটি প্রতিবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত তাদের আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।
আদালতে তলবের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রুয়েটের পরিষদ শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার শাহ মো. আল বেরুনী ফারুক বলেন, ‘৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার কাছে ডাকযোগে চিঠির খামের মধ্যে সাদা কাগজ পাঠানো হয়েছিল। এই ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছিল, সেখানে আমাদের ব্যাপারে অভিযোগ করা হয়েছিল। হয়তো ওই চিঠির খামের ওপরে হাতের লেখা মেলানোর জন্য আমাদের আদালতে ডাকা হয়েছে। আমরা সেখানে অবশ্যই যাব।’
কামাল হোসেন ইতি বলেন, ‘আমাকে কেন আদালতে ডাকা হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। আর আমার আগের কিছু পারিবারিক বিষয় ছিল। যেগুলো চাকরির ক্ষেত্রে প্রয়োগ হতে পারে না।’