বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৩ ১৯:৫৫ পিএম
আপডেট : ০৫ মে ২০২৩ ২০:৪০ পিএম
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যারা জীবন দিতে দ্বিধাবোধ করেননি, তাদের জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র। একই সঙ্গে যেই জায়গাগুলো এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত, তা সংরক্ষণেরও দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার (৫ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মিলন চত্বরে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্মরণে এক আলোচনা সভায় এই দাবি জানানো হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত। বক্তব্য দেন নারীমুক্তি কেন্দ্রের অর্থ সম্পাদক নায়মা খানম মণিকা ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ঢাকা নগর ফোরামের সদস্য মানস নন্দী।
আলোচনার শুরুতে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নারীমুক্তি কেন্দ্রের নেতারা।
সভায় নেতারা দুই দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হল– ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত বিপ্লবীদের সঠিক জীবনগাথা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ সংরক্ষণ করা।
অনুষ্ঠানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা, মুক্তি রাণী বর্মণের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানো ও নারী পুরুষের সমঅধিকার, সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিও জানায় তারা।
অনুষ্ঠানে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বিপ্লবীদের জীবনকর্ম নিয়ে একটি প্রদর্শনীতে দেখানো হয়।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবনকর্ম উপস্থাপন করে নায়মা খানম মণিকা বলেন, ‘তিনি দেখেন যে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে। তখন পুরুষরা আন্দোলন করত, তখন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার চিন্তা করেন আমার ভাইয়েরা আন্দোলন করতে পারলে আমি কেন ভাইদের পাশে থেকে কাজ করতে পারব না। তখন বিপ্লবী আন্দোলনের নেতারাও মেয়েদের নেওয়ার পক্ষে ছিল না। নানা বাধা উতরিয়ে প্রীতিলতা বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো অনেকেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে কাজ করেছেন। আমরা ছাত্রসমাজের সামনে তাদের নাম ও ভূমিকা তুলে ধরার দাবি জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেতা মানস নন্দী বলেন, ‘আমরা ব্রিটিশ, পাকিস্তানিদের সঙ্গে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি; কিন্তু সেই স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে এসে বর্তমান সময়ে আমরা নেত্রকোণায় দেখলাম যে একজন কিশোর আরেকজন কিশোরীকে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে হত্যা করেছে। আমরা আমাদের কিশোরদের হত্যাকারী, খুনি বানাচ্ছি। তারা খুনি হয়ে গড়ে উঠছে। এর জন্য সমাজব্যবস্থা কি দায়ী নয়? যারা শাসন করছে তারা কি দায়ী নয়? খুনিরা কি এমনি এমনি জন্ম নিচ্ছে? অবিভক্ত ভারতে স্বাধীনতার আদর্শে এ দেশের কিশোর-তরুণরা প্রাণ বিসর্জন দিতে এগিয়ে এসেছিল, আজকে সেই দেশের উত্তরসূরি কিশোর-তরুণরা খুনি হচ্ছে! কারও ভেতর নীতি-নৈতিকতা নেই।’
সভাপতির বক্তব্যে সীমা দত্ত বলেন, ‘এই আয়োজন যখন করছি তখন দেশের পরিস্থিতি কী, তা আপনারা জানেন। দেশে দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশছোঁয়া। এখানে উন্নয়ন বলতে বুঝাচ্ছে মেট্রোরেল, ব্রিজ, সড়ক ইত্যাদি। কিন্তু এখানে যে বেকারত্ব, দারিদ্র্য বাড়ছে সেই সূচকগুলো আমাদের সামনে আসছে না। প্রীতিলতাকে এই কারণে স্মরণ করছি যাতে আমাদের তরুণসমাজ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে জানতে পারে। তরুণ যাতে মাদকাসক্ত, ধর্ষক, খুনি হিসেবে গড়ে না ওঠে, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে এই অপরাধগুলো ঢুকে গেছে তা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন করতে হবে।’