বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৩ ২১:৪৬ পিএম
আপডেট : ০১ মে ২০২৩ ২৩:০২ পিএম
ফাইর ছবি
সপ্তাহে এক দিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়াকে ঘিরে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির বাইরেও বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত এক দিন সশরীরে একাডেমিক শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। যথারীতি চলে প্রশাসনিক কার্যক্রম। নির্দেশনা আছে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার অনলাইন ক্লাসের কথা বলা হলেও বেশিরভাগ বিভাগে সেদিন কোনো ক্লাসই নেওয়া হয় না। এতে সেশনজটে পড়ার শঙ্কায় আছেন তারা।
গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে সরকারের কৃচ্ছ্রতা সাধনের নীতি মানতে গিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী সপ্তাহে চার দিন সশরীরে ও এক দিন (বৃহস্পতিবার) অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হবে। এদিন প্রশাসনিক কার্যক্রম যথারীতি চলবে বলেও সিদ্ধান্ত আসে ওই সভায়। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। তবে এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরুপায় বলে জানান উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সালমা আক্তার তিশা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় আমাদের ক্লাসের সংখ্যা কম হচ্ছে। পরীক্ষার শিডিউল নিয়ে অনেক ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। ফলে সেশনজটে পড়ছি। অনলাইনে নেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ শিক্ষক ক্লাস নিতে খুব একটা আগ্রহী নন।’
১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পেছনে রাষ্ট্রের মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়। এটা অনেকটা রাষ্ট্রের বিনিয়োগের মতো। এই সম্পদ যত কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারব, তত বেশি ফল আসবে। এ ছাড়া নিয়ম করে অনলাইন ক্লাসও হয় না বিভাগগুলোতে।’
এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘করোনার ক্ষতি পোষাতে চার মাসে সেমিস্টার করা হয়েছিল। বর্তমানে অনেক বিভাগই তা ছয় মাসে নিয়ে এসেছে। সপ্তাহে এক দিন অতিরিক্ত বন্ধ থাকায় ওই এক দিন করে সময়টাও নষ্ট হচ্ছে।’
১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিথিলা আক্তার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ক্লাস বন্ধ থাকায় বাকি চার দিন প্রচুর চাপ পড়ে। ফাইনাল পরীক্ষার সময় সপ্তাহে একটা পরীক্ষা হয়। তাই পরীক্ষা শেষ হতে অনেক দেরি হয়। সেমিস্টারে দেরি হয়। বৃহস্পতিবার বাস না থাকায় আমরা যারা টিউশন করাই, তারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাই।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন বলেন, ‘সরকার এখনও কৃচ্ছ্রতা সাধনের নির্দেশনা তুলে নেয়নি। নতুন কোনো নির্দেশনা ছাড়া আমরা বৃহস্পতিবার সশরীরে ক্লাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। আমাদের বাজেট দেওয়া হয়েছিল অর্থনৈতিক সমস্যা শুরু হওয়ার আগে। এরপর কৃচ্ছ্রতা সাধনে জ্বালানি খরচের ২৫ ভাগ কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাই সরকার থেকে উপযুক্ত অর্থ খরচের অনুমতি না পাওয়ায় আমরা নিজেরাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিই যে, এক দিন সশরীরে ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইনে নেওয়া হবে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এ বাজেট নিয়ে সমস্যায় আছে।’
অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের ব্যাপারে উপাচার্য বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় প্রত্যেক বিভাগের প্রধানরা নিজ থেকেই জানান অনলাইন ক্লাসের ব্যাপারে। তবে কেউ কেউ বলেছিলেন এক দিন অনলাইন ক্লাসের বদলে ওিই ক্লাসগুলো বাকি চার দিনে শিডিউল করে নেবেন। যদি তা না হয়, শিক্ষার্থীরা আমার কাছে অভিযোগ জানালে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’