পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:১৯ পিএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:২৮ পিএম
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শিলাইকুঠি বালাবাড়ি মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। প্রবা ফটো
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে প্রবেশপত্র পেয়েছেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শিলাইকুঠি বালাবাড়ি মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। রবিবার (৩০ এপ্রিল) পরীক্ষার দিন সকালেই তার হাতে প্রবেশপত্র পৌঁছে দেয় উপজেলা প্রশাসন। পরে কালান্দিগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসা পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন সুমাইয়া।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদুল হক। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসক মহোদয় ও আমি রাতভর মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। রাতেই বোর্ডের চেয়ারম্যান ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। আজ (রবিবার) সকালেই বোর্ড থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রবেশপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রবেশপত্র পেয়ে দারুন খুশি সুমাইয়া।’
মাস তিনেক আগে দাখিল পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিলেন সুমাইয়া আক্তার। ফরম পূরণের জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দেন তিনি। এরপর পরীক্ষার জন্য দিনরাত পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নেন সুমাইয়া। কিন্তু শনিবার প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে বাধে বিপত্তি। কারণ তার নামে কোনো প্রবেশপত্র আসেনি। পরে জানতে পারেন, তার ফরম পূরণই করেনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তার বদলে ভুল করে দুই বছর আগে বিয়ে হয়ে লেখাপড়া বন্ধ হওয়া সুরাইয়া নামের এক ছাত্রীর ফরম পূরণ করা হয়েছে। পরীক্ষার এক দিন আগে এমন ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সুমাইয়া।
সুমাইয়া জানিয়েছিলেন, প্রবেশপত্রের জন্য অন্যদের মতো মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষকে ৫০০ টাকাও দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ভুলে তার এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি জানাজানি হলে তার পরিবারসহ স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে ‘মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভুলে দাখিল পরীক্ষা অনিশ্চিত সুমাইয়ার’ শিরোনামে শনিবার একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সুমাইয়া বলেন, ‘পরীক্ষা দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। যারা আমাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে ক্যারিয়ার গঠন করতে পারব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
সুমাইয়ার বড় বোন মোর্শেদা আক্তার বলেন, ‘ফরম পূরণ না হওয়ায় সুমাইয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আসলে সে এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রবেশপত্র পেয়েছে। অবশেষে পরীক্ষা দিল। আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। সেই সঙ্গে বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়কেও ধন্যবাদ।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদুল হক বলেন, ‘পরীক্ষার আগেই ওই শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র তুলে দিতে পেরেছি। আমরা চাই না এমন ভুলের কারণে কেউ লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়ুক। এ ছাড়া এমন ভুলের যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য ওই প্রতিষ্ঠানসহ সকলকে সতর্ক করা হয়েছে।’