ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:৪৪ পিএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:১৭ পিএম
ভৈরবে পরীক্ষা দিতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় এসএসসি পরীক্ষার্থী রোমান মিয়া। প্রবা ফটো
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া রুটিন দেখে দুই এসএসসি পরীক্ষার্থী বিভ্রান্ত হয়েছে। তারা দেরি করে যাওয়ায় কেন্দ্রে ঢুকতে পারেনি। তাদের মধ্যে একজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। পরীক্ষার্থীরা হলো কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের ছাত্রী তৃষা আক্তার ও হাজী ইউসুফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র রোমান আহমেদ। তারা বলছে, ফেসবুকে ছড়ানো একটি রুটিন থেকে তারা জানতে পারে পরীক্ষা হবে দুপুর ১টা থেকে। পরে তারা খবর পায় পরীক্ষা সকাল থেকে হচ্ছে। খবর পেয়ে তারা হন্তদন্ত হয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যায়। এতে তাদের এক ঘণ্টা দেরি হয়। তখন আর তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
পরীক্ষার্থী রোমানের চাচা উজ্জ্বল মিয়া খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলছেন, ইউএনওকে অনুরোধ করেও তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যায়নি। আর পরীক্ষার্থী তৃষার মা জিয়াসমিন আক্তার বলছেন, তার মেয়ে কোনো এক কারণবশত জেনেছে পরীক্ষা দুপুর ১টায় শুরু হবে। পরে খবর পেয়ে সে ১১টা নাগাদ কেন্দ্রে পৌঁছায়। কিন্তু পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হওয়ায় তাকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
তারা এক ঘণ্টা দেরির কথা বললেও কেন্দ্র সচিব (ভৈরব সরকারি কাদির বকস মডেল পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক) মো. নুরুল ইসলাম বলছেন, ‘দুই পরীক্ষার্থী নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রে পৌঁছায়। এ কারণে তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। নিয়মের বাইরে কেন্দ্রে উপস্থিত হলে পরীক্ষা দেওয়ার কোনো সুযোগ আমরা দিতে পারি না। অভিভাবকদের অসচেতনতায় এ রকম ঘটনা খুবই দুঃখজনক।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই শিক্ষার্থী বেলা ১১টায় এসে পরীক্ষার কেন্দ্রে ঢুকতে না পেরে হতভম্ব হয়ে পড়ে। পরে তারা ইউএনওর কার্যালয়ে যায়। সেখানে ইউএনওকে পাওয়া যায়নি। এ সময় রোমান উপজেলা পরিষদের সামনে ভৈরব-ময়মনসিংহ সড়কে বাসের নিচে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পথচারীরা তাকে রক্ষা করেন। মেয়েটিও এ সময় ‘মরে যাব’ বলে চেঁচামেচি করে। পরে অভিভাবকরা কেবি স্কুলে গিয়ে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করেন। শেষ পর্যন্ত তারা পরীক্ষা দিতে পারেনি।
উপজেলা পাবলিক পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ইউএনও সাদিকুর রহমান বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিলেও তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেননি। ইউএনও বলছেন, তিনি ঢাকা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ অনুমতি না দেওয়ায় অসময়ে তাদের পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ইউএনও বলেন, ‘তারা পরীক্ষা দেবে আর সময়সূচি জানবে না এ ধরনের ভুল দুঃখজনক। তাদের অভিভাবকদের বলেছি বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে। এক বিষয় পরীক্ষা আগামী বছর দিতে পারবে। নিয়মের বাইরে গিয়ে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি আমি দিতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘অভিভাবকদের অনুরোধ করেছি পরীক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সান্ত্বনা দিতে।’