প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:৩৩ পিএম
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:৪৬ পিএম
‘মেয়েদের ক্ষমতায়নে শিক্ষা : আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় অতিথিরা। প্রবা ফটো
সামগ্রিকভাবে শিক্ষায় যে একটা বিভাজন সেখানে মেয়েরা একটু বেশি আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ।
তিনি বলেন, ’শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকহীনতা চলছে। মাধ্যমিকে মেয়েরা এলেও তার অর্ধেক স্কুলজীবন শেষ করে না। এদিকে করোনায় যে দুই বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, সেখানে যে ক্ষতি হয়েছে তা আগে পূরণ করতে হবে। তা না হলে একটি প্রজন্ম ক্ষতির মুখে পড়ছে। ডিজিটালিও বৈষম্যের কারণে পিছিয়ে পড়ছে নারী শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিক স্কুল থেকে এই বৈষম্য শুরু হয়েছে। যা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও আরও প্রকট হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মেয়েদের ক্ষমতায়নে শিক্ষা : আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন এই সভার আয়োজন করে।
সভায় গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। মালালা ফান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন মোশাররফ তানসেন।
দেশের নারী শিক্ষায় আমাদের দেশের কিছু মানুষ তালেবানদের মতো মনোভাব পোষণ করে বলে মন্তব্য করে ড. মনজুর আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময় হেফাজতে ইসলাম এই দাবি করেছিল। প্রগতিশীল সরকার থাকার পরও ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীর চাপে অনেক সময় আমাদের পিছিয়ে যেতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সেকুলার ফোর্স সামনে আসতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দরকার। কিন্তু সেটি না থাকার জন্য ধর্মভিত্তিক দলগুলো চাপ প্রয়োগ করতে পারছে। আমরা যতটা না এগিয়ে চলছি, তারা আমাদের পিছিয়ে দিতে পশ্চাৎপদ যাত্রা করতে বাধ্য করছে। এরপরও শিক্ষায় অনেক অগ্রগতি করেছি আমরা। মেয়েরাও ছেলেদের মতোই স্কুলে আসছে। এটা নিশ্চয় ভালো খবর। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, সামগ্রিকভাবে শিক্ষায় যে একটা বিভাজন সেখানে মেয়েরা একটু বেশি আক্রান্ত।’
মেয়েদের শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গণস্বাক্ষরতা অভিযান দেশের ৬ উপজেলায় ২৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কাজ শুরু করেছে। যার অর্থায়ন করেছে সম্প্রতি বাংলাদেশে কাজ শুরু করা মালালা ফান্ড। মালালা ফান্ড স্বপ্ন দেখে বিশ্বের সকল শিশু দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়বে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশে তিনটি লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ শুরু করেছে।
মালালা ফান্ডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোশাররফ তানসেন বলেন, ‘বিশ্বে মালালা ফান্ড ৯টি দেশে কাজ করছে। তবে সম্প্রতি তালেবানদের কারণে আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের চর অঞ্চল, উপকূল, হাওর, চা-বাগান ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ শুরু করেছে।
এর বাইরে কয়েকটি গবেষণা প্রকল্প চলছে বলে জানান তিনি।
এ সময় ক্যাম্পের পক্ষ থেকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি চিত্র উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয়, আমাদের দেশে ২০ লাখ তরুণ প্রতিবছর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করার উপযোগী হচ্ছে। এর বিপরীতে ১৩ লাখ চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে।
তবে সম্প্রতি কোভিডের কারণে এই সমস্যা আরও বেড়েছে।
১৯৯০ সাল থেকে শিক্ষায় যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল তা করোনায় বড় ধাক্কা খেয়েছে। করোনার ১৫ মাসে দেশের ৪০ লাখ শিক্ষার্থী আক্রান্ত হয়েছে।
শুধু পড়াশোনাতে নয়, শারীরিক ও মানসিকভাবেও। অন্যান্য দেশে স্কুল (মাধ্যমিক শিক্ষ) বাধ্যতামূলক হলেও আমাদের দেশে এখনও প্রাথমিকে শুধু শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।