বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৩ ২২:২০ পিএম
আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৫৭ পিএম
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। ছবি : সংগৃহীত
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মারিয়া রহমানের মৃত্যু নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। এ নিয়ে দফায় দফায় মিছিল-মিটিং করছেন শিক্ষার্থীরা। গত ২৩ মার্চ দশ তলা আবাসিক হলের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন মারিয়া। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ, পরীক্ষা পদ্ধতি এবং কিছু শিক্ষকের অমানবিক আচরণকে দায়ী করে উপাচার্যের বাসার সামনে একত্রিত হন।
এ সময় তারা মারিয়ার মৃত্যুর যথার্থ কারণ উদঘাটন, যথার্থ চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর কারণ, পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন ও শিক্ষার্থীবান্ধব পড়ালেখার পরিবেশ তৈরি করা এবং শিক্ষকদের অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা প্রয়োগ বন্ধসহ বেশ কয়েক দফা দাবি জানান। এ ছাড়াও আগামী ১ এবং ২ এপ্রিল ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা এবং আগামী ২ এপ্রিল স্মারকলিপি দেওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি না মানা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা।
বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ড. মো. ফরহাদ হোসেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে তাদের দাবি লিখিত আকারে জমা দিতে বলেন তিনি। এ সময় শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ‘আগামী শনিবার ও রবিবারের ক্লাস-পরীক্ষা’ স্থগিতের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেন।
পরে মারিয়া রহমানের স্মৃতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও আলোক মিছিল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অ্যাকাডেমিক ক্লাস-পরীক্ষার চাপ এবং কিছু শিক্ষকের অমানবিক আচরণের বলি হয়েছেন মারিয়া। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, মানসিক সমস্যার কারণে মারিয়া আত্মহত্যা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ড. ফরহাদ বলেন, ‘মারিয়া মানসিক অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা নিয়েছিল। ২০১৯ সালে সে কৃষি অনুষদের ডিন বরাবর একটি আবেদন করে, যার সাথে সে বেশ কিছু প্রেসক্রিপশন জমা দেয়। সেখানে তার মানসিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ আছে। তবে আমরা এখন তার পরিবারের কথা ভেবে বিষয়টি পুরোপুরি খোলাসা করতে চাচ্ছি না। আমরা যেকোনো প্রয়োজনে মারিয়ার পরিবারের পাশে আছি।’