কুবির সীমানা প্রাচীর হয়নি ১৭ বছরেও
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৩ ১৮:০০ পিএম
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৩ ১৮:৫৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরেও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না হওয়ায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বহিরাগতরা অবাধ যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের হয়রানিসহ মারধরের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি বহিরাগতদের হাতে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এখানেই শেষ নয়; ক্যাম্পাসের বিভিন্ন টিলায় বহিরাগতরা বসাচ্ছেন মাদকের আসর। ফলে প্রায়ই টিলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২০২০ সালের ১৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পাহাড়ে আগুন লাগে। পরের বছর ২০২১ সালের ১৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পাশের পাহাড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০২২ সালের ২ মার্চ আগুন লাগে ক্যাফেটেরিয়ার পেছনের অংশের পাহাড়ে। সবশেষে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ আবারও আগুন লাগে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের উত্তর-পশ্চিম পাশে সীমানা প্রাচীর বলতে কিছুই নেই। কয়েকটি পিলার ব্যবহার হয়েছে সীমানা বোঝানোর জন্য। এই পথে নিয়মিত ঘটে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত। সন্ধ্যা নামলেই বিভিন্ন জায়গায় বসে মাদক সেবন করতে দেখা যায়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইফাই ব্যবহার করে মোবাইলে গেম খেলতে দেখা।
প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পার হলেও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। প্রায়ই ক্যাম্পাসে ঘটে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। ক্যাম্পাসের লাইটসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগও রয়েছে। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বেশ কয়েকবার ছিনতাইয়ের শিকারও হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও কিছুদিন পর পর পাহাড়ে আগুন লাগে। বহিরাগতরা নেশাদ্রব্য সেবন করে অচেতন অবস্থায় এই আগুন লাগায় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনের দিকে সীমানা প্রাচীর না থাকায় বহিরাগতরা অবাদেই সেদিক দিয়ে প্রবেশ করছে।
লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী দ্বীপ চৌধুরী বলেন, ‘সীমানা প্রাচীর না থাকায় সন্ধ্যার পরেই ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে, ফ্যাকাল্টিগুলোর পেছনে বহিরাগতদের মাদকের আড্ডা বসে। তারাই কখনো মাদক সেবনের পর অচেতন অবস্থায় আগুন লাগিয়ে দেয়। তা ছাড়াও সীমানা প্রাচীর না থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের প্রবেশ ঘটে এবং ছিনতাইসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।’
সীমানা প্রাচীর না থাকায় ক্যাম্পাসে চলাচলে অনিরাপদ অনুভব করেন নারী শিক্ষার্থীরা। বাংলা বিভাগের ১১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী উম্মে মারিয়া বলেন, ‘সাংগঠনিকসহ বিভিন্ন কাজে প্রায়শই আমাকে ক্যাম্পাসে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত থাকতে হয়। কিন্তু বহিরাগতদের যাতায়াতের কারণে ক্যাফেটেরিয়া থেকে বের হয়ে যখন ক্যাম্পাস গেট পর্যন্ত যাই তখনও নিরাপত্তার অভাব অনুভব করি। এটা ক্যাম্পাসের অবস্থা হতে পারে না। সীমানা প্রাচীর থাকলে আর বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত না থাকলে এমন হতো না।’
প্রতিষ্ঠার এতো বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সীমানা প্রাচীর না হবার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, এই বিষয় তিনি কিছু জানেন না। পূর্বে ইউজিসিতে প্রস্তাব পাঠানোর বিষয় জিজ্ঞেস করাতে তিনি বলেন, এগুলা রেজিস্ট্রার দপ্তরের কাজ না।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সীমানাপ্রাচীর নেই তা আমি অবগত ছিলাম না। আর প্রাচীর তো একদিনেই করা সম্ভব না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্য বৃদ্ধি করব।