বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৩ ১৯:৪৬ পিএম
আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৩ ২১:১৭ পিএম
কুবি ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির চার নেতার অনশন স্থগিত। প্রবা ফটো
পাঁচ দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির চার নেতা অনশন স্থগিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অনশন ভাঙেন।
সোমবার (২০ মার্চ) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির ও ট্রেজারার অধ্যাপক আসাদুজ্জামান তাদের পানি পান করান।
অনশনকারীরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক কাজল হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ শাহরিয়া, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ ও একই হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান চৌধুরী।
সালমান চৌধুরী বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিয়েছে দ্রুত দাবিগুলো পূরণ করবে। এ কারণেই আমরা অনশন ভেঙেছি। আমাদের দুজনের (এনায়েত উল্লাহ ও সালমান চৌধুরী) ওপর যে বহিষ্কার আদেশ ছিল সেটা সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। আমরা এখন ক্লাস পরীক্ষা দিতে পারবো। আমরা সেদিনই সন্তুষ্ট হবো, যেদিন আমাদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন হবে।’
অনশনকারীদের দাবিগুলো হল- প্রক্টরের পদত্যাগ, হামলাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার, বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হয়ে মামলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আইনি পরামর্শক নিয়োগ করা। একই সঙ্গে অছাত্র, বহিরাগত ও একাধিক মামলার আসামিদের হলে ওঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করার দাবিও জানায় তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর (এনায়েত উল্লাহ ও সালমান চৌধুরী) সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল স্তরের স্টেকহোল্ডারদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করে আসছেন তারা।
দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘তারা যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারে তাহলে আমি নিজেই পদত্যাগ করব। তাদের দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মেনে বাস্তবায়ন করা হবে। এখন থেকে হলে সন্ধ্যাকালীন কোর্সের কেউ অবস্থান করতে পারবে না।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘এখন থেকে ক্যাম্পাসে অছাত্র কেউ প্রবেশ করতে পারবে না, সকলকেই আইডি কার্ড দেখিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হবে। দুজন শিক্ষার্থীকে যে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করে সিন্ডিকেটে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রক্টরের বিরুদ্ধে যে মৌখিক অভিযোগ এনেছিল তারা সে ব্যাপারে যদি কোনো ডকুমেন্টস নিয়ে আসতে পারে তাহলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’
৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পাকিস্তানি মসজিদের সামনে মারধরের শিকার হন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ ও একই হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান চৌধুরী। পরবর্তীতে মারধরের বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক প্রায় দেড় ঘন্টা অবরোধ করে রাখেন তারা। ৯ মার্চ ও ১৪ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে ছয়দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিলুপ্ত কমিটির নেতারা। সর্বশেষ ১৯ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেয় তারা। ওইদিন বিকাল চারটায় অনশন শুরু করে চার নেতা।