প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৩ ২১:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৩ ২২:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কোভিড মহামারির আগে একজন শিক্ষার্থী দৈনিক গড়ে ছয় ঘণ্টা করে পড়াশোনা করত। করোনার সময় স্কুল বন্ধ থাকায় একজন শিক্ষার্থীর এই পড়াশোনা গড়ে চার ঘণ্টা কমেছে। অর্থাৎ গড়ে দুই ঘণ্টা করে পড়াশোনা করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় ঝরে পড়ার হার বেশি দেখা গেছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে। প্রাথমিকের ৩.১ শতাংশ এবং মাধ্যমিকের পাঁচ শতাংশ ঝরে পড়েছে। শিশুশিক্ষা জরিপ-২০২১-এ উঠে এসেছে এমন তথ্য।
বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভবনের অডিটোরিয়ামে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এটি তুলে ধরেন ডেমোগ্রাফি অ্যান্ড হেলথ উইংয়ের পরিচালক মো. মাসুদ আলম।
২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে জরিপটি চালানো হয়েছে। মো. মাসুদ আলম বলেন, করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিভিন্ন দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অনলাইন, টেলিভিশন ও বেতারের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে পাঠ নিয়েছে ১৮.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, করোনায় মেয়েদের চাইতে ছেলেদের পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার হার বেশি ছিল। ২০২১ সালে প্রাথমিকের চার শতাংশ ছাত্র পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। মেয়েরা ছেড়েছে ২.৩ শতাংশ। প্রাথমিকে ঝরে পড়া মোট শিক্ষার্থীর হার ৩.১ শতাংশ। মাধ্যমিকেও ঝরে পড়ার হার বেড়েছে। ২০২১ সালে এটি ছিল পাঁচ শতাংশ। কোভিডের আগে এ হার ছিল ৩.৮ শতাংশ। এখানেও ছেলেদের ঝরে পড়ার হার বেশি। করোনাকালে ছেলেদের পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার হার ৫.৭ শতাংশ। মেয়েদের ক্ষেত্রে এ হার ৪.৫ শতাংশ।
করোনায় স্কুল বন্ধ হওয়ার আগে একজন শিক্ষার্থী যেখানে বাসা, স্কুল ও কোচিং মিলিয়ে দৈনিক গড়ে ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করত, সেখানে স্কুল বন্ধ থাকাকালে দৈনিক গড়ে দুই ঘণ্টা করে পড়াশোনা করেছে।
সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা অবস্থায় অনলাইন, টেলিভিশন ও বেতারের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে পাঠ নিয়েছে ১৮.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। করোনায় স্কুল বন্ধ থাকাকালে ২০.৩ শতাংশ শিক্ষক ফোনে শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিয়েছেন। ২০ শতাংশ শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের বাড়ির কাজ দিয়েছেন। অ্যাসাইনমেন্ট ও শিট দিয়েছেন ৭১.৭ শতাংশ শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের কোনো খোঁজ নেননি ১৭.৫ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, সরকারের তড়িৎ পদক্ষেপের কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে কোভিডের প্রভাব সহনশীল মাত্রায় ছিল। তিনি এ ধরনের জরিপ পরিচালনার জন্য বিবিএস ও ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন। সভাপতিত্ব করেন বিবিএস মহাপরিচালক মো. মতিউর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্পিয়ার শাখার প্রধান স্টানলি গোয়াভুয়ার।
ড. শাহনাজ আরেফিন বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে কোভিডের প্রভাব নিয়ে আগে নির্ভরযোগ্য তেমন কোনো সরকারি পরিসংখ্যান ছিল না। বিবিএস সে শূন্যতার জায়গাটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে এনেছে।
মো. মতিয়ার রহমান বলেন, এ ধরনের জরিপ কার্যক্রম বিবিএসের সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. দিপংকর রায়।