বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৩ ১৬:৪৯ পিএম
আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৩ ১৭:১৮ পিএম
বুধবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রলীগ। প্রবা ফটো
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তালা খুলে নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কক্ষে যান ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. সালাহউদ্দিনকে পদ ছেড়ে দিতে বলেন তারা। পরে তালা ঝুলিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ফটকের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আর রাফি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির কাউকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চাই না। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। বিএনপির অনেক বিবৃতিতে উনার নাম আছে। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের অনেক অভিযোগ আছে আমরা সেগুলোর সমাধান চাই।’
সহসভাপতি এনামুল হক এনাম বলেন, ‘ভিসি স্যারের বাসায় গিয়ে তাকে আল্টিমেটাম দিয়ে আসা হয়েছিল। এরপর কীভাবে বিভিন্ন পদে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিরা নিয়োগ পায়? এ বিষয়ে আমরা ভিসি স্যারের সঙ্গে আজ কথা বলব, যেন যোগ্য এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষের ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পায়।’
জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার অফিসে, ওরা এসে আমাকে বের হতে বলেছে। আমি বলেছি, ভিসি স্যারের কথায় এসেছি, ভিসি স্যারের কথাতেই যাব। তারা আমাকে বলেছে, ‘সরকারবিরোধীদের সঙ্গে আপনার যোগসাজশ রয়েছে, আপনি বের হন।’ আমি বলেছি, এই বিষয়টা তো আগে প্রমাণ হয়েছে, এটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।’
এ ছাড়া ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ছাত্রলীগ নেতারা। এ সময় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে ৪ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি রাখা যাবে না, এমন ব্যক্তিদের অপসারণ করতে হবে; পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের কাজে অদক্ষতার ফলে সমাবর্তনে শিক্ষার্থীরা যে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন তার জবাবদিহি করতে হবে; সমাবর্তনে দেওয়া সনদপত্র নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে, মানসম্মত কাগজের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সদাচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের চেয়ে সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।