× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ছাত্রলীগ, যুবলীগও ছিল : ৮ ছাত্র সংগঠন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৩ ২৩:০১ পিএম

বিনোদপুরে সংঘর্ষের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মহানগর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মীও জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বাম ছাত্র সংগঠন। প্রবা ফটো

বিনোদপুরে সংঘর্ষের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মহানগর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মীও জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বাম ছাত্র সংগঠন। প্রবা ফটো

বিনোদপুরে সংঘর্ষের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মহানগর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মীও জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বাম ছাত্র সংগঠন। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বিকালে সংগঠনগুলোর দেওয়া এক বিবৃতি এসব অভিযোগ করেন নেতাকর্মীরা।

ছাত্র সংঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, নাগরিক ছাত্র ঐক্য (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা)।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১১ মার্চ বগুড়া থেকে আগত রাবি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল-আমিন আকাশের সঙ্গে বাস কন্ডাক্টরের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কন্ডাক্টরের সঙ্গে হাতাহাতি হয় আকাশের বন্ধুদের। এসময় বিনোদপুরের কিছু ব্যবসায়ী আকাশের বন্ধুদের ওপর চড়াও হলে রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ বাধে। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র (রামদা, চাপাতি, রড, হকিস্টিক, স্ট্যাম্প)সহ বিনোদপুর গেটে এসে জড়ো হন। ছাত্রলীগ কর্মীদের এ সংঘর্ষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

অপরদিকে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা অনিক মাহমুদ বনিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা পুলিশ বক্সে আগুন দিলে আশেপাশের কিছু দোকানেও ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের ঘটনা এতো বিস্তৃত হওয়ার পেছেনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টায় উপাচার্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতির কোনো সমাধান না করেই ফিরে আসেন।

এর পর শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও ছররা গুলি চালায় পুলিশ। ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। সামান্য বাকবিতণ্ডার ঘটনা সংঘর্ষের পর্যায়ে যাওয়া এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় চূড়ান্তভাবে দায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলা ও নির্লিপ্ত অবস্থান।

ক্যাম্পাসে ও ক্যাম্পাসের বাইরে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আক্রান্ত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলেও জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এ ছাড়া, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস করে তোলার চেষ্টায় রেললাইনের উপর ডামি পুড়িয়ে চারুকলার রেলগেট অবরোধ করার ঘটনায় রাবি মন্নুজান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জান্নাত জারা নেতৃত্ব দিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এসময় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাকিলা বলেন, বিনোদপুরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দিয়েছে তারা। আর আমাদের যে দাবিগুলো রয়েছে সেগুলো শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই নেওয়া হয়েছে।

এসময় ছাত্র সংগঠনগুলো ৬ দফা দাবি পেশ করেন। তাদের দাবীসমূহ হলোÑ

১. অবিলম্বে ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

২. নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ প্রক্টরিয়াল বডির অপসারণ ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ উপাচার্যকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

৩. আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. হলে ছাত্রলীগের দখলদারিত্ব ও সিট বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে এবং নতুন হল নির্মাণ করে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং মামলার নামে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণ হয়রানির শিকার যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে রাকসু সচল করতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা